গেম খেলে টাকা আয় করুন

গেম খেলে টাকা আয়

ভিডিও গেম খেলে টাকা আয়, বিষয়টা শুনতে অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে! অনেকে আবার মোবাইলে লুডু খেলে টাকা আয় করার জন্য নানা উপায় গুগলে প্রায়ই সার্চ করে থাকেন। এই ব্যাপারটি তাদের জন্য আশ্চর্যবোধক নাও হতে পারে যারা লুডু খেলে মোবাইলে অনলাইনে টাকা আয় করার চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তবে আজকের এই পোস্টে আমরা লুডু খেলে বা গেমিং এপস এর মাধ্যমে টাকা আয় করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো না। আমরা আজকের এই আর্টিকেলটিতে দেখাবো, যারা গেমস খেলতে অনেক পছন্দ করেন অথবা বিভিন্ন সময় শখের বশে যারা গেমস খেলে থাকেন কিংবা গেমস খেলার প্রতি তাদের অনেক আসক্ত রয়েছে। কিভাবে তারা তাদের শখকে অনলাইনে আয়ের উৎস হিসেবে তৈরি  করে নেবেন?

ভিডিও গেম খেলা অনেকের জন্য শখের কাজ হোক সেটা অনলাইনে বা অফলাইনে। সাধাণরত যারা সবচেয়ে বেশি গেমস খেলতে পছন্দ করে তাদের মধ্যে টিনেজার ও স্কুল কলেজের ছাত্ররা সবচেয়ে এগিয়ে। আবার এমন ধরনের অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা গেম খেলার জন্য স্কুল কলেজের টাইমে ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে ভিডিও গেমস এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ভিডিও গেমসের প্রতি আসক্ত। প্রতিনিয়ত ভিডিও গেমস খেলার ফলে অনেকে এসব খেলায় অনেক পারদর্শী হয়ে ওঠে।

অবশ্যই পড়ুন:

আজকাল পথে-ঘাটে বের হলে লক্ষ্য করা যায় ছেলে মেয়ে ভিডিও গেমসের প্রতি খুব বেশি আসক্ত। কানের ভেতর হেডফোন লাগিয়ে একজন আরেকজনের সাথে প্রতিনিয়তই অনলাইন গেমস খেলে যাচ্ছে। আর এসকল গেমসের কারণে আবার অনেক মানুষ বাস্তবিক জীবন থেকে সরে যাচ্ছে। বিষয়টা অনেকটা  বিরক্ত লাগার মতই। মাঝে মাঝে মনে হয় যে, এই সকল ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে কেন শুধু শুধু বাবার টাকা নষ্ট করছে??  

ডিজিটালের এই যুগে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে অনলাইনে ভিডিও গেম খেলার প্রবনতা দিন হতে দিন বেড়েই চলেছে। আগেকার সময় কম্পিউটার গেমসগুলো  কেবলমাত্র অফলাইনে বসে নিজে নিজে খেলা হত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেটি আস্তে আস্তে অনলাইনে টিমওয়ারী খেলার পদ্ধতিতে রূপান্তর হতে থাকে। আর বর্তমানে বেশিরভাগ অনলাইন গেমস টিম ভিত্তিক বন্ধুদের সাথে খেলা হয়ে থাকে। আরে সকল গেমস এর মধ্যে বর্তমানে PUBG  এবং Free Fire বেশ জনপ্রিয় অনলাইন গেম।

গেম খেলে কারা ইনকাম করতে পারবে?

যারা অনলাইনে আয়  করতে চান তাদের জন্য আমি প্রায়ই একটি কথা বলে থাকি যে, অনলাইনে আয় করার সহজ কোন উপায় নেই। এটা শুধুমাত্র অনলাইনে নয়, টাকা আয় করার জন্য তেমন কোন ধরনের সহজ উপায় নেই। আপনি যে কোন মাধ্যম বা উপায় অবলম্বন করে টাকা উপার্জন করতে চান না কেন আপনাকে অবশ্যই দক্ষতা থাকতে হবে। অভিজ্ঞতা ছাড়া কোন কাজ করা সম্ভব নয়। হোক সেটা অনলাইন বা অফলাইনে। ঠিক তেমনভাবেই কোন একটি  বিষয়ে সঠিক  দক্ষতা ছাড়া অনলাইন থেকে টাকা আয় করা সম্ভব নয়। অতএব  আপনাকে গেম খেলে টাকা আয় করতে হলে,  গেমস এর বিষয়ে আপনার অনেক ভালো অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

যদি কেউ আপনাকে অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে লোভনীয় উপায় দেখায়, আপনি সেটা কখনোই বিশ্বাস করবেন না। আর এর মূল কারণটি হচ্ছে এই পৃথিবীর কোন একটি প্রতিষ্ঠান বা সার্ভিস আপনার কাছ থেকে টাকা আদায় বা লাভ না করে টাকা দেবে না। আর এই কারনেই কেউ আপনাকে অনলাইনে সহজে টাকা আয়ের জন্য লোভনীয় অফার দেয় তাহলে সেটা গ্রহণ করবেন না। আর এটিকে মিথ্যা বলে ধরে নেবেন।

আপনি অনলাইন ব্যবহার করেছে কোন মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে চান না কেন, কেউ না কেউ সেই  টাকাটা আপনাকে দিচ্ছে। আর সেই টাকাতো এমনি এমনি আসে না। এইজন্য আপনি একবার ঠান্ডা মস্তিষ্কে একটু  বসে ভেবে দেখুন তো, ঐ ব্যক্তি, সার্ভিস বা প্রতিষ্ঠান কেন আপনাকে টাকা দিচ্ছে? এর উত্তরটি খুঁজতে গেলে আপনি  একটি জবাব অবশ্যই পাবেন যে, সেই ব্যক্তি বা কম্পানি আপনার কাছ থেকে লাভবান হচ্ছে বিধায় আপনাকে টাকা দিচ্ছে। কোন প্রকার বিনিময় ছাড়া এই পৃথিবীর কোন ব্যক্তি বা কোম্পানি কাউকে টাকা দেয় না।  এজন্য আপনি অন্যায় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যে কাজই করতে যাননা কেন। প্রত্যেকটি কাজেই আপনার সঠিক দক্ষতা অর্জন করে তারপর  অনলাইনে আয়ের কথা চিন্তা করতে হবে। 

গেম খেলে আয় করার করতে কী লাগবে?

উপরের বিষয়বস্তু গুলো পড়ে এতক্ষণে আপনি  নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন যে, গেম খেলে অনলাইন হতে টাকা আয় করার জন্য অবশ্যই  আপনাকে একজন অনভিজ্ঞতাসম্পন্ন গেমার হতে হবে। যদি আপনি মনে করেন অনলাইনে গেম খেলার যেসকল অ্যাপ্লিকেশনগুলো আছে সেগুলো প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল করার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন, তাহলে আমি বলবো আপনি বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন।

অনলাইনে অথবা ফেসবুকে অনলাইন ইনকাম রিলেটেড গ্রুপে ঢুকলে অনেক সস্তা ট্রিক্স পেয়ে যাবেন। যেগুলোতে বলা হয় এই গেম খেলে ১০০ ডলার আয় করুন, ওই অ্যাপ্লিকেশন থেকে ৫০ ডলার আয় করুন! এগুলো নিছক ধান্দাবাজি আর ফাইজলামী ছাড়া কিছু নয়। তবে অনলাইনে কিছু কিছু গেমস রয়েছে  যেগুলো কম্পিউটার বা মোবাইলে ইন্সটল করলে কিছু কয়েন পাওয়া যায়। আর  সাধারনত সেই অর্জনকৃতসেই পয়েন্টগুলো বিভিন্ন গেমারদের কাছে বিক্রি করা যায়। কিন্তু এই ধরনের সফটওয়ার অথবা অ্যাপ্লিকেশন থেকে আপনি মাসে ১০ ডলার অথবা তার বেশি ইনকাম করতে পারবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে।

গেম-খেলে-টাকা-আয়-কি-সম্ভব


উপরের চিত্রটি ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে জনপ্রিয় বাংলা ব্লগ “বাংলা টেক” এর একটি  আর্টিকেল এর কমেন্ট  থেকে  সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলা টেক এর এডমিন রাহুল দাস  তার ব্লগ ওয়েবসাইটটিতে মোবাইলে গেম খেলে আয়ের কথা উল্লেখ করে একটি আর্টিকেল পাবলিশ করেছিলেন। আর সেই পোস্টটিতে “মোঃ সুলতান হোসেন” নামক  উপরের কমেন্ট করেছিলেন। আর কমেন্টের জবাবে এডমিন রাহুল দাস খুব সুন্দর একটি উত্তর দিয়েছেন। অর্থাৎ গেম খেলে আয় করার মাধ্যমে টাকা  বা পেমেন্ট আদৌ পাবেন কিনা সেই ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলা টেক এর এডমিন যথাযথ বলেছেন। আর যা বলেছেন এটাই সত্যি। গেমস খেলে টাকা আয় করার কথা আপনার মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। এগুলো নিয়ে আপনি জীবনে কিছু করতে পারবেন না। অর্থাৎ এগুলো দিয়ে আপনি  Long Time আয় করা সম্ভব নয়। হয়তো আপনি সাময়িকভাবে 1/2 মাস অথবা অল্প কিছু টাকা আয় করতে পারবেন কিন্তু এটি ব্যবহার করে কখনো আপনি দীর্ঘদিন টাকা আয় করে যেতে পারবেন না। তবে কিছু উপায় রয়েছে যা আপনি অবলম্বন করে প্রতি মাসে একটি মোটা অংকের টাকা আয় করতে পারবেন। তবে এটা শুধুমাত্র গেমস খেলার মাধ্যমে নয় বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়তে থাকুন

গেম খেলে আয় করার জন্য যেগুলো প্রয়োজন

ভিডিও গেমস খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা যদি আপনার না থাকে, তাহলে তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি পরার সাথে সাথেই আপনি অনলাইন থেকে আয় করা শুরু করতে পারবেন না। আর এর মূল কারণটি যদি আপনি গেম খেলতে না জানেন অথবা একজন গেমার না হন, তাহলে একেবারে প্রথমে কখনোই আপনি আয় করা শুরু করে দিতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে সবার আগে একজন দক্ষ ভিডিও গেমার হতে হবে। আবার অন্যদিকে যারা গেম খেলায় বেশ পারদর্শী তারা বিস্তারিত জানার মাধ্যমে আজ থেকে গেম খেলে আনলাইন থেকে আয় করার কাজ শুরু করে দিতে পারেন।

গেম খেলে টাকা ইনকাম করার জন্য নিচের বিষয়গুলোর প্রয়োজন হবে-

  • ভিডিও গেম খেলার প্রতি প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকতে হবে। আপনার যদি গেমসের প্রতি আগ্রহ বা ইচ্ছে শক্তি না থাকে তাহলে আপনি আয় করতে পারবেন না।
  • গেমস খেলায় বেশ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পারদর্শী হতে হবে।
  • শুধুমাত্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে তাই কম্পিউটার থাকতে হবে। তবে মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো মানের একটি মোবাইল ফোন হতে হবে।
  • অবশ্যই আপনার কাছে ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে।
  • ভিডিও এডিটিং করার জন্য মোটামুটি বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে। না থাকলেও তেমন কোন সমস্যা নেই তবে থাকলে আপনার জন্য অনেকটা সহজ হয়ে যাবে এবং আপনি সবার থেকে একধাপ এগিয়ে থাকবেন
  • ভালো গেমিং এর জন্য গেমিং কনসোল প্রয়োজন হবে।

গেম খেলে অনলাইনে আয় করার উপায়

কোন গেম খেলে টাকা আয় করা যায়

গেম খেলে অনলাইন থেকে আয় করার জন্য নানা রকম উপায় রয়েছে। যেগুলো অবলম্বন করে আপনি সহজেই অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন। যদি আপনি একজন ভালো লেভেলের অর্থাৎ pro-মানের ভিডিও গেমার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি ভিডিও গেমসের মাধ্যমে সহজে অনলাইনে আয় করতে সক্ষম হবেন। তবে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কোন গেম খেলে টাকা আয় করা যায়? একজন গেমার হয়ে কিভাবে ভিডিও গেম খেলে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করতে হয়, এখন সে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরবো।

গেমিং ইউটিউবার হয়ে ইনকাম

ইউটিউব একটি ভালো পার্ট টাইম জব। একজন গেমারের জন্য অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে সহজ উপায় ও জনপ্রিয় মাধ্যমটি হচ্ছে ইউটিউব। বর্তমানে বাংলাদেশে সহ ইউটিউবে গেমারদের প্রচুর ডিমান্ড রয়েছে। দিন দিন গেমিং এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউটিউবেও চলছে এর প্রতিযোগিতা। একটু খেয়াল করলে দেখবেন গেমিং চ্যানেল গুলোর ভিডিও প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউজ হয়। এখানে আরেকটি মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, অন্য সকল ইউটিউবারদের মত গেমিং ইউটিউবারদের খুব বেশি একটা পরিশ্রম এবং মেধা কাটাতে হচ্ছে না।

সাধারণত ইউটিউবে যারা প্রযুক্তিবিষয়ক ভিডিও তৈরি করে থাকেন, তাদেরকে অনেক রিসার্চ করে অনেক মেধা খাটিয়ে তারপর একটি ভিডিও তৈরি করতে হয়। তারপর আবার ভিডিও এডিট করতে হয়। কিন্তু অন্যদিকে গেমার ইউটিউবারদের এতসব টেকনিক অবলম্বন করার প্রয়োজন পড়ে না। যদি আপনি একজন দক্ষতা সম্পন্ন ভিডিও গেমার হন, তাহলে গেম রিলেটেড আপনার পছন্দের একটি নামে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে নিবেন। আর বিভিন্ন গেম এর জঠিল বা কঠিন অংশগুলো কিভাবে খেলতে হয় বা টার্গেট ফিলাপ করতে হয়, সে বিষয়ে স্ক্রিন ভিডিও তৈরি করা শুরু করে দিন। ইউটিউবে আপনার খেলা ভিডিও গেমসগুলো আপলোড করার মাধ্যমে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

একজন গেমার ইউটিউবার সাধারণত তিনটি উপায়ে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে অনলাইন থেকে টাকা আয় করতে পারেন। এখানে সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে যে, ভিডিও তৈরি করার জন্য আপনাকে আলাদা কোন স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে হবে না। একসাথে আপনার ভিডিও খেলার সখ ও ভিডিও তৈরির কাজ করতে পারবেন।

প্রথমত আপনি যদি একজন দক্ষতা সম্পন্ন ভালোমানের গেমার হন, তাহলে ভিডিও গেম খেলার সময় ভিডিও এর ভেতরের কঠিন ধাপগুলো স্ক্রিন ভিডিও রেকর্ড করে, সেগুলো ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। কারণ একটি ভিডিও গেমের কঠিন ধাপগুলো খেলার উপায় সম্পর্কে ইউটিউবে প্রচুর পরিমানে সার্চ করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে আপনি গেমের কঠিন ধাপগুলো সফলভাবে খেলতে পারলে, আপনার ভিডিও ইউটিউবে সহজে ভাইরাল হবে।

দ্বিতীয়ত, যে গেমসের প্রতি আপনার অনেক ভালো ধারণা রয়েছে সেই গেমসটি বাছাই করবেন। সেই গেমসটির উপরে রিভিউ ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই সবসময় নতুন নতুন সকল ভিডিও গেমগুলোর খবর নিয়মিত রাখতে হবে এবং এগুলো সম্পর্কে ধারনা নিতে হবে।

তৃতীয়ত, ভিডিও এর কমেন্ট্রি তৈরি করা। এই কাজটি সকল সফল গেমার ইউটিউবাররা করে থাকে। আপনি ভিডিও গেম খেলার সময় ভিডিও গেমের ভীতরে কোথায় কি হচ্ছে, সামনে কি আছে, বিভিন্ন স্টেপে কি কি ঘটতে পারে, গেম খেলার সময় সেগুলো খেলার সাথে সাথে কমেন্ট্রি করতে পারেন। এর ফলে এক দিকে যেমন খেলা হয় অন্য দিকে বিনোদনও হয়। এ ধরনের ভিডিও ইউটিউবে প্রচুর পরিমানে ভিউ হয়।

game খেলে ইউটিউব থেকে কত টাকা আয় করা যায়?

শুধুমাত্র অনলাইনে গেম খেলে আয় যে কি পরিমানে করা যায়  তার জানলে হয়তো আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে। শুধুমাত্র ভিডিও গেমস এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে ইনকাম সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার জন্য বর্তমানে বিশ্বের একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলকে উদাহরণ হিসেবে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
লুডু খেলে টাকা আয়

T-Series হচ্ছে বর্তমানে ইউটিউব এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বড় একটি চ্যানেল। এটি ভারতের একটি মিউজিক কোম্পানি। যার ইউটিউব সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা 166 মিলিয়ন এরও বেশি। তবে T-Series হচ্ছে একটি সংগীত মুলক ভারতীয় চ্যানেল।  আর এরপরই চেয়ে জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলটি রয়েছে সেটি হল- PewDiePie। আর এই চ্যানেলটি একটি গেমিং চ্যানেল। PewDiePie ইউটিউব চ্যানেলের সংখ্যা হচ্ছে 108 মিলিয়নেরও বেশি। একটু ভেবে দেখুন তো, এটি একটি গেমিং চ্যানেল কিন্তু অবস্থান  ইউটিউব এর দিক থেকে  বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়। PewDiePie ইউটিউব চ্যানেলটি শুধুমাত্র গেমিং ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রায় $500,000 ডলার ইনকাম করে থাকে।

এ ছাড়াও ইউটিউবে আরো অনেক  রকম জনপ্রিয় গেমিং ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। তবে আপনি যদি একজন দক্ষতা সম্পন্ন ভালো গেমার হন  এবং প্রফেশনালভাবে আপনার কিম ক্রুজ স্ক্রিন রেকর্ড করে ইউটিউবে আপলোড করতে থাকেন। তাহলে কিছুদিন যাওয়ার পর ভিডিও আপলোড করে প্রতিমাসে ৩০০-৫০০ ডলার আয় করা এমন একটা কষ্টের ব্যাপার হবে না। এরপর আস্তে আস্তে যখন আপনার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকবে আপনার আয়ের পরিমানে তত বৃদ্ধি পাবে।

গেমিং ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে আয়

আপনার যদি বিভিন্ন ধরনের গেম সম্পর্কে  অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে  আপনি আপনার নিজের নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে গেমের রিভিউ লিখে ব্লগের মাধ্যমে অনলাইন থেকে হাজার ডলার মাসে আয় করে নিতে পারেন। আপনি চাইলে কোন প্রকার ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই  ফ্রিতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করা শুরু করতে পারেন। তবে আপনি চাইলে ডোমেইন-হোষ্টিং ক্রয় করে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। ওয়েবসাইটে রিভিউ লেখার আগে আপনাকে  অবশ্যই  যে গেমস নিয়ে লেখালেখি করবেন গেমের ভালো খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে।  রিভিউ লেখার মাধ্যমে আপনার ব্লগে গেমসের ভালো-মন্দ দুই দিকই তুলে ধরতে হবে।

গেমিং ওয়েবসাইটগুলোতে অনেক ভালো পরিমাণে ট্রাফিক থাকে। কাজেই আপনি যদি জানেন সম্পর্কে অনেক ভালো জানেন এবং সেগুলো নিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে আপনি খুব সহজেই লেখালেখি করে আয় করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই কনটেন্ট রাইটিং সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। কারণ আপনি যদি গেমের বিষয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে না পারেন তাহলে একজন পাঠক আপনার রিভিউটি পড়তে চাইবে না। 

Twitch এ গেমিং ভিডিও আপলোড করে আয়

ইউটিউব এর মত আরেকটি ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে Twitch। তবে এই প্ল্যাটফর্মটিতে সকল ধরনের ভিডিও আপলোড করা হয় না। Twitch এরমধ্যে শুধুমাত্র ভিডিও গেমের লাইভ স্ট্রিমিং ও রেকর্ডকৃত নানা ধরনের গেমিং ভিডিও এখানে আপলোড করা হয়ে থাকে। আপনি যদি ইউটিউব এর মত এরকম একটি জনপ্রিয় প্লাটফর্মে ভিডিও আপলোড করতে পারেন, তাহলে Twitch প্ল্যাটফর্মটি আপনার জন্য সহজ মনে হবে।

তাছাড়া এখানে আরেকটি চমৎকার ব্যাপার হচ্ছে, ইউটিউবের মত করে Twitch এরমধ্যে এত কঠিন পলিসি নেই। এখানে আপনি ভিডিও তৈরি করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভিডিও আপলোড করে আয় করা শুরু করতে পারবেন। Twitch থেকে আয় করার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে তাদের হালকা কিছু নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। আর এর জন্য নিচের রিকোয়ারমেন্ট গুলো পুরন হলেই ভিডিও মনিটাইজ করে আয় করা সম্ভব হয়।
  • শেষ এক মাসে যদি আপনার মাত্র ৫০০ মিনিট ওয়াচ টাইম থাকে তাহলেই ভিডিও মনিটাইজ  করে আয় করা শুরু করতে পারবেন।
  • শেষ এক মাসে ৭ টি ভিডিও আপলোড করতে হয়।
  • শুধুমাত্র ৫০ জন ফলোয়ার থাকলে ভিডিও মনিটাইজ করা সম্ভব হয়। ইউটিউব এর ক্ষেত্রে 1000 সাবস্ক্রাইবার লাগে।
Twitch প্ল্যাটফর্মটির কথা আপনি হয়তো এবারই প্রথম শুনতে পারেন। কারণ বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ এ সম্পর্কে খুব একটা জানেনা। কিন্তু গেম স্ট্রিমিং এর জন্য Twitch প্ল্যাটফর্মটি অনেক জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। তাছাড়াও এখানে আরেকটি মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে অনেক ইন্টারন্যাশনাল গেমারদের সন্ধ্যান পাওয়া যায়। যদি আপনি একজন দক্ষ গেমার হয়ে যান, তাহলে  Twitch ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে ইনজয় করার পাশাপাশি ভিডিও স্ট্রিমিং করে টাকা আয় করে নিতে পারবেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে টাকা আয়

আমাদের মধ্যে অনেকেই ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এ সম্পর্কেও google-এ সার্চ করে থাকি। আপনি যদি একজন দক্ষ গেমার হতে পারেন তাহলে আপনি ফেসবুক পেজ থেকে আয় করতে পারবেন। আর এই কাজটি করার জন্য আপনার অবশ্যই একটি ফেসবুক পেজ থাকতে হবে। আর সেই ফেসবুক পেজটিতে ভিডিও আপলোড করতে হবে।

একটি কথা অবশ্যই মনে রাখবেন, শুধুমাত্র একটি নিজস্ব ফেসবুক একাউন্ট খুলে আয় করা কখনোই সম্ভব নয়। আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক পেজ খুলতে হবে এবং সেই ফেসবুক পেজটিতে গেমিং ভিডিও আপলোড করতে থাকুন। আপনি চাইলে গেমগুলো লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারেন। এতে করে সহজ অনেক বেশি ভিউজ পাবেন। ফেসবুকের নিয়মাবলী অনেকটা ইউটিউব এর মতই। বর্তমানে অনেক গেমার রয়েছে যারা শুধুমাত্র ফেসবুক থেকেই অনেক ভালো পরিমাণ টাকা আয় করছে।

বর্তমানে ইউটিউব এর থেকেও খুব তাড়াতাড়ি সফলতা পাওয়া সম্ভব হবে। কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণে একটিভ ট্রাফিক রয়েছে। যার কারণে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আপনার যেকোনো একটি ভিডিও যদি ভাইরাল হয়ে যায় তাহলে যে কি পরিমান টাকা ইনকাম হবে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। এখানে আরেকটি সুবিধা হচ্ছে আপনি আপনার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করতে পারবেন। এতে করে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের পাশাপাশি ফেসবুক থেকেও আয় করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন। 

গেমিং টুর্নামেন্ট খেলে আয়

আমাদের মাঝে অনেক মানুষ রয়েছেন যাদের গেমিং টুর্নামেন্ট খেলার প্রতি অনেক আগ্রহ এবং নেশা রয়েছে। আর এই গেমিং টুর্নামেন্ট বর্তমানে অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও খেলা হয় থাকে। বিশেষত বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় গেম PUBG এবং Call of Duty এর টুর্ণামেন্ট নানা রকমের সাইবার ক্যাফেতে আয়োজন করতে দেখা যায়। এছাড়াও এসকল  গেম গুলোর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করে অনলাইনে এন্ট্রি ফি দাখিল করে টিমওয়ারি গেম খেলে টাকা আয় করা যায়।

যদি আপনি অনেক দক্ষতা সহকারে PUBG খেলতে পারেন  অথবা যদি আপনি নিজেকে একজন PUBG এক্সপার্ট মনে করেন, তাহলে  অনলাইনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে বিভিন্ন দলের সাথে পাবজি খেলে ঘরে বসে টাকা আয় করে নিতে পারবেন। তবে একটি কথা মনে রাখবেন এন্ট্রি ফ্রি দেওয়ার পর খেলায় যদি আপনি হারেন, তাহলে আপনি আপনার  সেই এন্ট্রি ফি ফিরে পাবেন না।

এরকম ধরনের গেমের ক্ষেত্রে আপনি এক্সপার্ট না হলে অংশগ্রন করবেন না। কারণ বর্তমানের এই কম্পিটিশনের যুগে অনেক দক্ষতা সম্পন্ন গেমার  অনলাইনে রয়েছেন। যারা আপনার থেকে অনেক বেশি দক্ষতা সম্পন্ন হয়। কিন্তু আপনি একজন দক্ষতা সম্পন্ন গেমার হয়ে উঠতে পারেন  এবং সবসময় টুর্ণামেন্ট জিতে পারেন তাহলে গেমিং এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

গেম টেষ্টার হয়ে আয়

যখন কোন একটি গেমস অনলাইনে পাবলিশ  করার জন্য চিন্তা ভাবনা করা হয়  তখন পাবলিশ করার আগে প্রত্যেকটি গেমস কোম্পানি গেমসটি  সম্পর্কে গ্রাহকরা কি ধরনের মনোভাব পোষণ করবে তা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। গেমটি পাবলিশ করার আগে জ্ঞান কোম্পানি এ ব্যাপারে জানার জন্য প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করে যে,  গেমসটি অনলাইনে পাবলিশ করার পর গ্রাহকদের কাছে কেমন হবে বা গ্রাহকরা এটি পছন্দ করবে কিনা?

আর এর জন্য প্রত্যেকটি গেমস প্রকাশ করার পূর্বে গেমস কোম্পানিটি গেমস টেস্টারদের দ্বারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। আর এটি পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজন পড়ে গেমসটি টেস্টারদের। মূলত গেমস্ টেস্টার কোন একটি গেমস্ এর ভিতরে কোন ভুল ত্রুটি রয়েছে কিনা সেগুলো নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। আর এই ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে একজন গেম টেস্টারকে অবশ্যই অনেক ভালো দক্ষতা সম্পন্ন গেমার বা গেমসের প্রতি প্রচুর আইডিয়া থাকতে হবে।

আবার কেউ ইচ্ছা করলেই গেম টেস্টারের কাজ পাবে না। এই কাজটি অনেক সহজ মনে হলেও অত্যন্ত দক্ষতা ছাড়া কখনোই সঠিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব নয়।  একজনকে স্টার হওয়ার পূর্বে অবশ্যই বিভিন্ন গেম, গেমের  ফিচারগুলো এবং কিভাবে সেগুলো খেলতে হয়, সে বিষয়ে অবশ্যই আপনার যথেষ্ট জ্ঞান এবং দক্ষতা অবশ্যই থাকতে হবে।

যখন আপনি একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গেম টেস্টার হয়ে যাবেন তখন আপনাকে কাজ পাওয়ার জন্য ওয়েবসাইট খুঁজে বের করতে হবে। তাছাড়াও অনলাইনে ফাইবার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস সহ আরো অনেক মার্কেটপ্লেস থেকে আপনি কাজ পেতে পারেন। গেম সম্পর্কে অনেক ভালো পরিমাণে আগ্রহ এবং এক্সপেরিয়েন্স থাকলে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোসহ আরো এই ধরনের ওয়েবসাইট খুঁজে বের করতে কোন প্রকার সমস্যা হবে না। এটা এক ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কাজ এর মধ্যে পড়ে।

আজকের টপিকের শেষ কথা

আসলে আপনার যদি গেমের প্রতি প্রচুর আগ্রহ এবং দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি উপরের মাধ্যমগুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন  মাধ্যম ব্যবহার করে গেম খেলে অনলাইনে টাকা আয় করতে পারবেন। যেহেতু বর্তমান সময়ে গেমিং এর ক্ষেত্রে ইউটিউব এবং ফেসবুকে এগিয়ে। তাই আপনি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার পাশাপাশি সেইটা আবার ফেসবুকে আপলোড করা শুরু করে দিন। তারপর আস্তে আস্তে আপনার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনি নিজেই গেমিং এর মাধ্যমে ভালো পরিমাণে টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন।

কাজেই সকল দক্ষতা সম্পন্ন গেমারদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনার এই দক্ষতা বা টিমের প্রতি এই আসক্তিকে শুধুমাত্র আসক্তিতে না রেখে ইনকামের সোর্স হিসেবে তৈরি করুন। তারপর আস্তে আস্তে লাইভ স্ট্রিমিং ও কমেন্ট্রি গেমিং ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে এক সময় আপনার গেম খেলার প্রতি নেশা বা আসক্তির মাধ্যমেই অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করার উপায় হিসেবে পরিবর্তন হয়ে যাবে।

2 মন্তব্যসমূহ

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

নবীনতর পূর্বতন