গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় 

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়
google adsense approval tips bangla

আমরা যারা ব্লগিং করে আয় করতে চাই তাদের সবারই একটা লক্ষ্য থাকে। আর সেটি হলো গুগোল এডসেন্স পাওয়া। গুগল এডসেন্স হলো কোন একটি ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করার সর্বোত্তম পন্থা। আমি যখন নতুন অবস্থায় ব্লগিং শুরু করি তখন আমারও প্রধান লক্ষ্য ছিল এটিকে ঘিরে।

একজন ব্লগার শুধুমাত্র গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকার বেশি আয় করতে পারেন। বাংলাদেশের অনেক ব্লগাররাই প্রতিমাসে এরকম আয় করে থাকেন। আর তাদের মূল ইনকাম আসে গুগল এডসেন্স থেকে।

শুধুমাত্র একটি সাইট তৈরি করলেই গুগল এডসেন্স পাওয়া যায় না। তার জন্য গুগলের অনেক নিয়ম-নীতি মেনে কাজ করতে হয়। নিয়ম নীতি না মেনে মেনে যদি কেউ গুগোল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রভাল করাতে চায় তাহলে সে ব্যক্তি কখনো অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভ পাবেনা। অনেকেই অ্যাপ্রভাল নিয়ে নানারকম ভোগান্তির শিকার হয়। কিন্তু কতগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি মেনে কাজ করলে সহজেই অ্যাডসেন্স পাওয়া সম্ভব।

গুগল এডসেন্স এর নিয়ম-নীতিগুলো কি? দ্রুত গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় কি? যা গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য অবশ্যই করতে হয়। তাহলে চলুন দেরী না করে জেনে নেয়া যাক অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রভাল সম্পর্কে। 

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়ঃ

আপনি যদি আপনার নিজস্ব ব্লগ ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স পেতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।  

  • ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও কাস্টমাইজেশন
  • ইউনিক বা নিজের লেখা আর্টিকেল 
  • ভিজিটর ওয়েবসাইটে প্রবেশের ব্যবস্থা করা এবং আপনার সাথে সংযুক্ত হতে পারার ব্যবস্থা।
  • সার্চ কনসোল যুক্ত করা
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইকন 
  • নিয়মিত ওয়েবসাইট আপডেট
  • কন্টেন পলিসি মেনে পোস্ট করা

এ সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি অবশ্যই আপনার এডসেন্স একাউন্ট একটিভ করতে পারবেন। 

ওয়েবসাইট ডিজাইনঃ

গুগল এডসেন্স এক্টিব করার জন্য আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করার পর অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটকে ইউজার ফ্রেন্ডলি ভাবে কাস্টমাইজ করতে হবে। এজন্য আপনি আপনার ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি ফ্রী অথবা পেইড থিম ব্যবহার করবেন। আর সেখানে আপনি আপনার ক্যাটাগরি অনুযায়ী মন মত ডিজাইন করবেন। 

টেমপ্লেট এর ডিজাইন সম্পূর্ণ ডেভলপাররাই করে দেবে বা তাদের দ্বারা করা থাকে।  আপনাকে শুধুমাত্র  আপনার ওয়েবসাইটের থিমকে খুব ভালোভাবে কাস্টমাইজ করে নিতে হবে। আর এই কাস্টমাইজেশন করা একেবারেই সহজ একটি কাজ। এটি করার জন্য আপনার এইচটিএমএল , সিএসএস বা জাভাস্ক্রিপ্ট  জানার প্রয়োজন হবে না।

এডসেন্সে এপ্লাই করার আগে আপনাকে অবশ্যই একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং সিম্পল একটি থিম আপলোড বা ইনস্টল করে নিতে হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করলে এডসেন্স পেতে অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। আর থিম এর ক্ষেত্রে আপনি যদি একটি প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করেন সে ক্ষেত্রে আরও বেশি ভালো হয়।

ইউনিক আর্টিকেলঃ

গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রভাল জন্য প্রধান ভূমিকা রাখে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট। এডসেন্স প্রবেশ করলে সবার প্রথমে একটি লেখা দেখতে পাবেন যে We Value Your Content। অর্থাৎ গুগল কনটেন্ট কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তাই একাউন্ট একটিভ করার জন্য কোয়ালিটিফুল ইউনিক কন্টেন্ট এর গুরুত্ব অপরিসীম।

গুগোল সব সময় নতুন নতুন টপিক পছন্দ করে। তাই এডসেন্স একটিভ করার আগে সব সময় চেষ্টা করবেন নতুন নতুন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে আর লেখাগুলো সম্পূর্ণ নিজে থেকে লিখবেন। আপনি যদি ইউনিক আর্টিকেল না লিখেন তাহলে আপনি কখনোই অ্যাপ্রভাল পাবেন না। তাই একটু কষ্ট করে হলেও নিজে থেকে লেখার চেষ্টা করুন।

 কতটি আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে?

এক্ষেত্রে অ্যাডসেন্সের ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। আপনার কনটেন্ট যদি ইউনিক এবং তথ্যবহুল হয় তাহলে আপনি অবশ্যই এডসেন্স পাবেন। আমার দেখা অনেকেই 10 থেকে 15 টি আর্টিকেল লিখেও এডসেন্স অ্যাপ্রভ পেয়েছেন। তবে আমার মতে কমপক্ষে ত্রিশটি ইউনিক আর্টিকেল  লিখার পর এডসেন্সে এপ্লাই দেওয়াটাই ভালো।

কত ওয়ার্ডের আর্টিকেল লিখতে হবে?

এক্ষেত্রেও তেমন কিছু গুগোল উল্লেখ করেনি। তবে আপনি যখন একটি তথ্যবহুল আর্টিকেল লিখবেন সেটা অবশ্যই অনেকটা বড় এবং কোয়ালিটিফুল আর্টিকেল হবে। আর তথ্যবহুল কনটেন্ট গুগলের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তাই সাধারণভাবে বলা যায় যে সবসময় 500 শব্দের বেশি লেখার চেষ্টা করবেন। আর্টিকেল এর মধ্যে কোয়ালিটি বজায় রাখবেন। অনেকে 200 থেকে 500 শব্দের আর্টিকেল লিখেও এডসেন্স পেয়ে যান।

গুগল এডসেন্স কি বাংলা ব্লগ সাপোর্ট করে?

যারা নতুন অবস্থায় ব্লগিং শুরু করতে চান তাদের অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, বাংলা লিখে কি এডসেন্স পাওয়া যায়? উত্তরটি হচ্ছে হ্যাঁ অবশ্যই পাবেন। ইন্টারনেটে আমার ব্লগটি সহ অসংখ্য বাংলা ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোতে গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভ করা রয়েছে। আপনি চাইলে আরো রিসার্চ করে দেখতে পারেন। তাহলে আশা করি গুগল এডসেন্স কি বাংলা ব্লগ সাপোর্ট করে কিনা এই উত্তরটি আরেকটু বেশি ক্লিয়ার হতে পারবেন। 

ভিজিটর আপনার সাথে সংযুক্ত হওয়ার ব্যবস্থাঃ


যখন কোন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে ঢুকবে এবং সে যদি আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে চায় অথবা আপনাকে জানাতে চায় তাহলে সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু পেইজের মাধ্যমে আপনাকে জানাতে হবে। অনেকেই আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চাইবে। আর কিছু পেইজ রয়েছে যেগুলো না থাকলে আপনি কখনো এডসেন্স পাবেন না।  

যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলের রিভিউতে পাঠাবেন তখন গুগল আপনার ওয়েবসাইটটিকে সম্পূর্ণ ঘেঁটে দেখবে। আর কিছু পেজ অবশ্যই তারা রিভিউ করবে যেগুলো ছাড়া কখনো অ্যাপ্রুভ পাবেন না। পেজ গুলো হল:
  1. Home
  2. About Us
  3. Contact Us
  4. Privacy Policy
উপরে উল্লেখিত চারটি পেজ অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে হবে। তাছাড়া আপনি আরও ½ টি পেয়েছে সংযুক্ত করতে পারেন যেমন sitemap, Disclaimer, Terms and Conditions, ইত্যাদি।

সার্চ কনসোল যুক্ত করা

এডসেন্সে এপ্লাই করার পূর্বে আপনার ওয়েবসাইটটিকে অবশ্যই গুগোল সার্চ কনসলে যুক্ত করতে হবে।এছাড়া আপনার ওয়েবসাইটে গুগোল কোন কনটেন্ট খুঁজে পাবেনা। যার কারণে আপনি অ্যাপ্রভাল ও পাবেন না।

মূলত সার্চ কনসোল এর মাধ্যমে গুগোল বুঝতে পারে যে আপনার ওয়েবসাইটে কতগুলো কনটেন্ট রয়েছে এবং সেগুলো কোন বিষয়ের উপর তা জানতে পারে। তাই আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটটি গুগোল সার্চ কনসলে যুক্ত না করে থাকেন তাহলে "No Content " এই সমস্যাটি এপ্লাই করার পর দেখা দিতে পারে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় আইকনঃ


একজন ভিজিটর যদি আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চায় তাহলে আপনাকে সে সোশ্যাল মিডিয়াতেও খোঁজ করতে পারে। তাই ওয়েবসাইটের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া লিংক এড করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে গুগলের কাছে ওয়েবসাইটের বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। 

যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া লিংকগুলো যেমন:  ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন, ইউটিউব ইত্যাদি যুক্ত করে নিবেন তখন একজন ভিজিটর সহজেই আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। এতে করে আপনি অনেক ভাবে বেনিফিট হতে পারেন যেমন: কেউ যদি আপনার সাথে স্পন্সরশিপ করতে চায় তাহলে সে আপনাকে সহজে খুঁজে পাবে এবং আপনি  সহজে এডসেন্স পাবেন।

তাই এডসেন্সে এপ্লাই করার পূর্বে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া লিঙ্ক এড করেছেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।এটি আপনার ওয়েবসাইটের সৌন্দর্যকে আরো ফুটিয়ে তুলবে। যদিও খুব ছোট একটি ব্যাপার কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত ওয়েবসাইট আপডেট

নিয়মিত কনটেন্ট আপডেট করা গুগলের কাছে খুবই পছন্দের । ব্লগ ওয়েবসাইট নতুন অবস্থায় শুরু থেকে এডসেন্স অ্যাপ্রভ পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিয়মিত কনটেন্ট আপডেট করে যাবেন। 

অনেকেই রয়েছেন যারা এডসেন্সে এপ্লাই করার পর আর কোন কনটেন্ট আপলোড করেন না। এটা অনেকটাই বোকামি। তাই আপনি যখন এডসেন্সে এপ্লাই করবেন এপ্লাই করার পরও ওয়েবসাইটের মধ্যে কনটেন্ট আপলোড করে যাবেন।

Content Policy মেনে পোস্ট করা

ওয়েবসাইটে পোস্ট করার আগে অবশ্যই আপনাকে গুগলের কিছু নিয়ম-নীতি মেনে পোস্ট করতে হবে। তাদের কনটেন্ট নীতি না মেনে যদি আপনি পোস্ট করেন তাহলে তারা কখনোই আপনাকে এডসেন্স অ্যাপ্রভ  দেবে না।

বর্তমানে অনেকের ওয়েবসাইট শুধুমাত্র Content Policy কারণে অ্যাপ্রুভ হচ্ছে না। আসলে তারা গুগলের কনটেন্ট নীতি না মেনে পোস্ট করার কারণে এমনটা হচ্ছে। এর জন্য আপনি ওয়েবসাইটে কনটেন্ট আপলোড করা আগে Content Policy গুগল এডসেন্স এর নিয়ম মেনে তারপর পোস্ট করুন। তাহলে আপনি অবশ্যই এডসেন্স পাবেন।

আমি যে বিষয়গুলো আপনার সাথে শেয়ার করেছি সেই বিষয়গুলো আপনাকে দ্রুত গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রভাল পেতে অনেক সহায়তা করবে। বিষয়গুলো যদি আপনি এড়িয়ে যান বা ঠিকমতো কাস্টমাইজেশন করে কাজ না করেন তাহলে আপনি অবশ্যই  এডসেন্স একাউন্ট একটিভ করতে ব্যর্থ হবেন।

6 মন্তব্যসমূহ

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

নবীনতর পূর্বতন