ব্লগিং করে টাকা আয় করুন

ব্লগিং করে টাকা আয়

ব্লগ, এই কথাটি আপনি হয়তো অনেকবার নানান জায়গায় শুনে থাকবেন। সেক্ষেত্রে আসলে ব্লগ কি? ব্লগের মানেটাই বা কি? ব্লগিং করতে কি কি লাগে? আর আমরা কেনই বা ব্লগিং করবো? কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো? ব্লগিং করে টাকা আয় করা কি সম্ভব? একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে কত টাকা আয় করা যায়? আপনাদেরকে এসব প্রশ্নের উত্তর জানাতেই আজকে ব্লগিং টিউটোরিয়াল- 01 নিয়ে হাজির হয়েছি।

আরো পড়ুন : 

ব্লগ মানে কি?

সহজভাবে বলতে গেলে ব্লগ হচ্ছে একটি খাতা বা ডাইরির মতন। এটি এমন এক ধরনের ডাইরি যেখানে আপনি আপনার মনের ভাষা গুলো প্রকাশ করতে পারবেন। এককথায় আপনি আপনার মনের মত করে লেখালিখি করতে পারবেন। আর যারা এই ধরনের কাজ করে থাকেন তাদেরকে ব্লগার বলা হয়। ব্লগাররা প্রধানত লেখালেখি করে আয় করে থাকেন 

এখানে আপনি আপনার মনের মতন করে গল্প, উপন্যাস, এসএমএস, শায়েরী, পত্রিকা, কবিতা আর্টিকেল যে কোন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। শুধুমাত্র আপনি একটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন যে, আপনি যে লেখাগুলো লিখছেন সেই লেখাগুলো যেন সবাই করে বুঝতে পারে। আর লেখাগুলো যেন খুব পরিষ্কার হয়। আর এর কারণটি হচ্ছে- আপনার একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি হয়তো অন্য কেউ দেখবে না অথবা হাতেগোনা কয়েকজন দেখতে পারেন। কিন্তু ব্লগ ডায়েরির মতন হলেও সেখানে আপনি যে বিষয়গুলি সম্পর্কে লেখবেন আজ না হয় কাল সেগুলো প্রচুর পরিমাণে মানুষ পড়বে।

তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন, আপনার ব্লগের লেখাগুলো যদি মানুষের পছন্দ না হয় সেক্ষেত্রে আপনি ব্লগিং করে বেশিদূর যেতে পারবেন না। আর ব্লগের মধ্যে আপনি আপনার কাছে থাকা পার্সোনাল ডাইরির মত করে কখনো হাতে-কলমে লিখতে পারবেন না। তার জন্য প্রয়োজন বিশেষ কিছু জিনিসের। তাহলে ব্লগিং করতে গেলে কি কি জিনিস লাগতে পারে?

ব্লগিং করতে যা লাগবে

ব্লগিং শুরু করতে গেলে তেমন কোন জিনিসের প্রয়োজন নেই। তারপরও কিছু জিনিস আপনার কাছে অবশ্যই থাকতে হবে। আর সেগুলো হলো:
  • একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ অথবা মোটামুটি ভালো মানের একটি স্মার্ট-ফোন। যদিও ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের মাধ্যমে কাজটি করলে অনেক সহজ হয়ে যায়। মোবাইলের ক্ষেত্রে ব্লগিং করা সম্ভব কিন্তু সকল ধরনের এসইও করা সম্ভব নয়। এসইও খুব বড় একটি ব্যাপার এটি সম্পর্কে আমরা পরবর্তী টপিকে জানব।
  • কম্পিউটার বা মোবাইলের সাধারন কিছু নলেজ।
  • তারপর যেটি লাগবে সেটি হলো ইন্টারনেট বা নেট কানেকশন।
  • ধৈর্য এবং সেইসাথে ইচ্ছাশক্তি।
উপরের এই জিনিসগুলো যদি আপনার মধ্যে থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি ব্লগিং শুরু করতে পারবেন

আমরা কেন ব্লগিং করব?

আপনাদের অনেকের মনে হয়তো একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে যে, কেন আমরা ব্লগিং করবো? আমাদের উপকার অথবা লাভটাই বা কি? আসলে আমরা যে কাজই করি না কেন সব কাজেরই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে। তেমনি ব্লগিং এরও একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য রয়েছে। 

হতে পারেন আপনি একজন শিক্ষার্থী। আপনি 15 থেকে 20 বছর পড়াশোনা করেছেন কোন একটা উদ্দেশ্য নিয়ে তাই না? আপনি শিক্ষাজীবন শেষে একজন ডাক্তার হবেন অথবা একজন ইঞ্জিনিয়ার। আর এই উদ্দেশ্য নিয়েই আপনি এগিয়ে চলছেন। একবার ভাবুন তো! আপনি যে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবেন, এটার মূল উদ্দেশ্য কি? অবশ্যই আপনার প্রধান উত্তরটি হবে টাকা উপার্জন করা। তেমনি আমরা যারা ব্লগিং করি অথবা শুরু করবে ভাবছে তাদের উদ্দেশ্যে ঠিক একই।

ব্লগিং যদিও লেখালেখি করার একটি পেশা তবে এটি অনেকে শখের বশে করে থাকেন। যারা লিখতে খুব ভালোবাসেন তাদের জন্য ব্লগিং হল সবচেয়ে বেস্ট। ব্লগিং শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই অনলাইনে টাকা আয় করার চিন্তা করা যাবেনা। আপনাকে ধৈর্য ধরে কাজ করে যেতে হবে এবং একসময় এটি অটোমেটিকলি আপনাকে রেভিনিউ দিতে থাকবে। 

একজন শিক্ষার্থী 20 থেকে 25 বছর তার শিক্ষা জীবনের পেছনে ব্যয় করে ভালো একটি চাকরি পাওয়ার আশায় তারপর আবার ভালো একটি চাকরি পাবেন কিনা সে ব্যাপারেও কোন গ্যারান্টি নেই। তাছাড়া একটি চাকরির সেলারিই বা কত হবে? ধরে নিলাম 20 থেকে 50 হাজার। তাছাড়া আমাদের দেশে চাকরির অবস্থা আপনারা আমার থেকে ভাল জানেন আমি কোন কাজকে ছোট করে দেখছি না শুধুমাত্র আপনাদের বোঝানোর উদ্দেশ্যে বললাম। ব্লগিং করে আপনি তার থেকেও বেশি টাকা আয় করতে পারবেন তাও আবার ঘরে বসে এছাড়াও ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে যে সুবিধাগুলো আমরা প্রায় সকলেই পেতে চাই। ব্লগিং করার ক্ষেত্রে যে সকল সুবিধা রয়েছে সেগুলো হলো: 

ব্লগিং-এ যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে

আমরা সবাই যে কোন পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন ধরনের কাজ খুঁজে থাকি যেখানে নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে। ব্লগিং এমন একটি পেশা যেখানে ব্লগারদের নিজস্ব স্বাধীনতা আছে। অনেকটা পার্ট টাইম জবের মত বলা যেতে পারে। একজন ব্লগার চাইলে যেকোনো সময়ই কাজ করতে পারেন। কারণ কাজটি তার সম্পূর্ণ নিজের। তাই এখানে যথেষ্ট পরিমাণ স্বাধীনতা থাকার কারনে যে কারো ব্লগিং সেক্টরটি পছন্দ হতে পারে। 

প্রত্যেক সময় প্রমোশন হয়

ভিজিটর দেরকে একটি ওয়েবসাইটের প্রাণ বলা হয়। আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যেযে সকল পোস্ট গুলো করবেন সেই পোস্টগুলো যতদিন যাবে ততই গুগলে রেঙ্ক হতে থাকবে। আর পোস্ট যত বেশি রেঙ্ক হবে ততবেশি অর্গানিক ভিজিটর ওয়েবসাইটের মধ্যে প্রবেশ করবে। আবার যত বেশি অর্গানিক ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারবেন, আপনার উপার্জনও দিনদিন ডেভলপ হতে থাকবে।

মানুষ আপনাকে চিনবে

এখানে  আপনি ফ্রেম পাবেন অর্থাৎ মানুষ আপনাকে চিনবে। আপনি যদি একবার সবার কাছে সঠিকভাবে, একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হতে পারেন তাহলে আপনার টাকা সর্বদিক থেকেই আসবে। কারণ তখন আপনি নানা ধরনের স্পনসর্শিপ পাবেন। এছাড়াও আপনাকে মানুষ চেনার কারণে আরও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা পারবেন পরবর্তীতে এটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা করব।

আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে

ব্লগিং শুরু করার পর দিন দিন আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি পেতে থাকবে। কারণ আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে কোন বিষয়ের ওপর একটি কনটেন্ট বা আর্টিকেল পাবলিশ করতে যাবেন, তখন আপনাকে সেই বিষয়টি নিয়ে অনেক রিসার্চ করতে হবে তারপর সাজিয়ে গুছিয়ে একটি আর্টিকেল লিখতে হবে। এতে করে দিন দিন বিভিন্ন বিষয়ের উপর আপনার জ্ঞান বাড়তে থাকবে। যা আমার কাছে অনেক ভালো একটি ব্যাপার বলে মনে হয়। তাছাড়াও ব্লগে আরও বিভিন্ন ধরনের সুবিধা রয়েছে। আপনি যখন ব্লগিং শুরু করবেন তখন সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। 

ব্লগিং শুরু করবেন কিভাবে?

নতুন অবস্থায় সবার মনে খুব কমন একটি প্রশ্ন থাকে, আর সেটি হল কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো? প্রশ্নটি নিয়ে অনেকের মনে নানা সংশয় থেকে যায়

এই প্রশ্নটির উত্তর হল- কিভাবে শুরু করবেন তা ভাবতে ভাবতে সময় নষ্ট করবেন না। এখন থেকেই শুরু করে দিন। কারণ এসব ভাবতে ভাবতে অনেক সময় চলে যায়, ফলে আর শুরু করা হয়ে উঠে না। কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত অর্থাৎ ব্যাসিক থেকে এডভান্স পর্যন্ত ধাপে ধাপে আপনাদেরকে গাইডলাইন দেওয়া হবে, কোন প্রকার সিক্রেট তথ্য লুকিয়ে রাখা হবে না। আমি চাই আপনারা সর্বোচ্চটা জানুন। প্রতিটি টিউটোরিয়াল ভালোভাবে অনুসরণ করলে কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়? এই প্রশ্নটির উত্তরও পেয়ে যাবেন 

ব্লগ থেকে কিভাবে আয় করা যায়?  

এত ইনকাম এবং সুযোগ-সুবিধার কথা বললাম, কিন্তু কিভাবে ব্লগ থেকে আয় করা যায়? অথবা একজন ব্লগার কিভাবে ব্লগিং করে আয় করে থাকে? এই প্রশ্ন হয়তো অনেক আগেই আপনার মাথায় এসেছে। তাহলে চলুন এই ব্যাপারে একটু জেনে নেয়া যাক।

একজন ব্লগার নানা উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমে ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করে থাকেন। তবে এখানে আমি  সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রধান তিনটি উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

1. গুগল এডসেন্স থেকে আয়

গুগল এডসেন্স, এটি হলো একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে টাকা আয় করার সবথেকে জনপ্রিয় সহজ এবং বিশ্বাসযোগ্য উপায়। অ্যাডসেন্স গুগোল এর মাধ্যমে একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ডিসপ্লে করে থাকে। যার মাধ্যমে একজন ব্লগার তার ওয়েবসাইট থেকে ভালো টাকা আয় করতে পারেন।

একটি ওয়েবসাইট শুধুমাত্র তৈরি করলেই সেখানে গুগোল বিজ্ঞাপন দেখাবেনা। তার জন্য আপনার ওয়েবসাইটটিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করতে হবে। এর জন্য আপনাকে অবশ্যই গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানতে হবে।

 2.অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় 

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার জন্য আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে গুগল এডসেন্সের থেকেও বেশি টাকা আয় করা যায়। পূর্বে আমাদের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। তাই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় আর্টিকেলটি পড়ে নিতে পারেন। 

3.স্পনসর্শিপ থেকে আয় 

ওয়েবসাইট থেকে আয় করার জন্য আরেকটি সেরা উপায় হচ্ছে স্পনসর্শিপ। যখন কোন একটি কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট প্রমোট অথবা সার্ভিস সম্পর্কে গ্রাহকদের কে জানাতে চায়, সে ক্ষেত্রে ওই কোম্পানিগুলো অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এর মত করে নির্দৃষ্ট জনপ্রিয় ওয়েবসাইটকে বেছে নেয়। এক্ষেত্রে কোম্পানি এবং ওয়েবসাইট ওনার দুজনের মধ্যে পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ওই কোম্পানি দের কাছ থেকে নেয়া হয়। মূলত এই পদ্ধতিকে বলা হয় স্পনসর্শিপ।  

উদাহরণস্বরূপ, আপনি আরটিভি চ্যানেলে গ্রামীনফোনসহ বিভিন্ন কোম্পানির এডভারটাইজমেন্ট দেখে থাকবেন। এক্ষেত্রে গ্রামীণফোন কম্পানি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা পে করার মাধ্যমে আরটিভিকে দিয়ে তাদের সার্ভিস সমূহের তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এই সম্পূর্ণ ব্যাপারটি হচ্ছে স্পনসর্শিপ।

তাই আপনার ওয়েবসাইটটি যদি মোটামুটি জনপ্রিয় হয়ে থাকে তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে স্পনসর্শিপ দিতে চাইবে। স্পনসর্শিপ থেকেও অনেক ভালো পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর থাকতে হবে। একটি ওয়েবসাইট থেকে শুধুমাত্র যে এই তিনটি উপায় অবলম্বন করে আয় করা যায় ব্যাপারটা এমন নয়। আরো বিভিন্নভাবে একটি ওয়েবসাইট থেকে আয় করা যায় এ ব্যাপারে আমরা পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত জানব। 

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়? 

এর উত্তর আমি এক কথায় বলবো এর কোন লিমিটেশন নেই। তবে এ ব্যাপারে আপনাদের কে একটু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। বর্তমানে ইউ এস, ইউ কে, চীন এমনকি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ব্লগিংকে তাদের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে 

একটি ওয়েবসাইটের আয় বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। একজন ব্লগার কিভাবে কোথা থেকে আয় করছে তা বোঝা বড় মুশকিল পূর্বেই বলেছি, যদি আপনি মানুষের কাছে পরিচিত হতে পারেন তাহলে আপনার টাকা সবদিক থেকেই আসবে। একটি বাংলা ওয়েবসাইট এর তুলনায় ইংলিশ ওয়েবসাইট থেকে 10 থেকে 15 গুণ বেশি টাকা আয় করা যায়, আর সেটা যেভাবেই হোক না কেন। কারণ আপনার কনটেন্টটি যদি ইংলিশ হয় তাহলে আপনার টার্গেটেড ভিজিটর থাকবে সারা বিশ্ব বিশেষ করে USA, UK, Bahrain ইত্যাদি দেশগুলো।

আর আপনি যদি বাংলা এ কনটেন্ট লিখেন তাহলে আপনার প্রধান টার্গেটেড ভিজিটর হবে বাংলাদেশ, ভারত ইত্যাদি। আর এই সকল দেশ টার্গেট করে ওয়েবসাইট তৈরি করলে সে ক্ষেত্রে ইনকামটা অনেক কম হয়। কারণ বাংলাদেশে যেখানে কোন একটা কাজে 1 টাকা ব্যয় করে থাকে উন্নত রাষ্ট্র সেখানে 15 টাকার বেশি ব্যয় করে থাকে। 

যেহেতু আপনাদেরকে ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা সম্ভব সে ব্যাপারে একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। সেহেতু বাংলা এবং ইংলিশ দুটি ব্লগ এরই ইনকামের প্রমাণ আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। 

1. ইংলিশ ব্লগ থেকে আয়

যদিও আমি ইংলিশ কনটেন্ট নিয়ে কাজ করি না। কিন্তু ইংলিশ কনটেন্ট বা ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেন আমার অনেক পরিচিত এমন একজনের মাসিক ইনকামের প্রমাণ ছবিসহ নিচে তুলে ধরেছি।

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়

ছবিটিতে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, গুগল থেকে ডিসেম্বর মাসের 21 তারিখে ব্যাংকে পেমেন্ট পাঠানো হয়েছে 4700 ইউ এস ডলার। যা বাংলা টাকায় কনভার্ট করলে 3 লাখ 90 হাজার টাকার উপরে আসে। তাহলে বুঝতেই পারছেন ইংলিশ ব্লগ থেকে কি পরিমান টাকা আয় করা সম্ভব।

2. বাংলা ব্লগ থেকে আয়

একটি বাংলা ব্লগ থেকে কি পরিমান আয় করা সম্ভব তা অমিত ভাইয়ের এই ভিডিওটি দেখলেই বুঝতে পারবেন। যার সাথে আমার অনেক ভালো একটি সম্পর্ক রয়েছে। এখানে একটি বাংলা ব্লগ থেকে এক বছরের মোট ইনকাম প্রমান সহ ভিডিওতে দেখানো হয়েছে।

ভিডিওটি দেখার মাধ্যমে আপনি ব্লগে বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করা কি সম্ভব? কত টাকা ইনকাম করা যায়? সত্যিই কি ইনকাম হয়? ইনকাম করার জন্য কত সময় লাগে? এসকল প্লাটফর্মে সময় দেওয়া কি ঠিক হবে? ইনকাম করতে গেলে কত সময় দিতে হবে? বাংলায় ব্লগ সাইট তৈরি করলে কি ইনকাম হবে? এ ব্যাপার গুলো নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন। 


আমি কত টাকা আয় করি?

অনেকের মাথায় হয়তো এই প্রশ্নটি ঘুরে বেড়াচ্ছে যে, অন্য মানুষের ব্লগিং-এর পেমেন্ট প্রুফ শেয়ার করলেন কিন্তু আপনি নিজে কত টাকা ইনকাম করেন? 

আসলে, উপরে যাদের ব্লগের ইনকাম আমি শেয়ার করেছি তাদের তুলনায় আমার ইনকাম খুবই নগণ্য। আর এগুলোরও কিছু কারণ রয়েছে। যার একটি কারণ হচ্ছে আমার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সংখ্যা খুবই কম। ওয়েবসাইটের বয়স কম আবার বাংলা কনটেন্ট । যার কারণে ভিজিটর সংখ্যা কম এবং ইনকামও কম। 

তাছাড়া আমার ব্লগের বয়স খুব বেশি দিন হয়নি, মাত্র ছয় মাসের মত হবে। তবে দিন যত যাবে ইনকামও দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তারপরও আমি বর্তমানে কত টাকা আয় করি বা করছি সে সম্পর্কে ছবি সহ নিচে তুলে ধরেছি। 

বাংলা ব্লগ থেকে আয়

এটি আমার শুধুমাত্র এই ওয়েবসাইটের গুগল থেকে ইনকাম করার প্রুফ। প্রতিদিন এই ওয়েবসাইট থেকে 3-6$ পর্যন্ত এসে থাকে। যা মাস শেষে বাংলা টাকায় কনভার্ট করলে 5 সংখ্যার ডিজিটে গিয়ে পৌঁছায়। তাছাড়াও এখান থেকে আমার আউট ইনকাম রয়েছে আশা করি এই ব্যাপারটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ একটি ধারণা পেয়েছেন।  

আজকের টপিকের শেষ কথা

ভিজিটর ছাড়া আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে কোনভাবেই আয় করতে পারবেন না। আবার ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র ভিজিটর আসলেই যে আপনার ইনকাম হবে ব্যাপারটা সেরকমও নয়। এই ব্যাপারগুলো নিয়ে আমরা পরবর্তী কোন এক টপিকে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। 

আশা করি, ব্লগিং করে টাকা আয় আজকের প্রথম পর্ব আপনারা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। বুঝতে কোথাও অসুবিধা হলে সম্পূর্ণ ব্যাপারটি খুব ভালভাবে আবারো পড়ুন। তারপরও যদি এই বিষয়গুলোর মধ্যে কারো কোন প্রশ্ন বা জানার থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। 

20 মন্তব্য

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

  1. Ola gostei muito do artigo , sou do Brasil e quero ganhar dinheiro

    উত্তর দিনমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. Thanks for your valuable comment. you can follow our full free blogging course step by step for make money online.

      মুছুন
  2. Bhai etodin por eto bhalo ekta likha porlam apnake really many many thanks

    উত্তর দিনমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই, ভালো কিছু দিতে পেরেছি জেনে উৎসাহিত হলাম।

      মুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো