এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার নিয়ম

ব্লগিং করে আয় এর চতুর্থ টিউটোরিয়ালে সকলকে স্বাগতম। আপনি যদি আগের টিউটোরিয়াল গুলো মেনে সঠিকভাবে কাজ করে থাকেন, তাহলে হয়তো এতক্ষণে ব্লগারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে ফেলেছেন। তাই আজকের এই টপিকে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে আপনাদেরকে জানাবো।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল হল অন পেজ এসইও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা একটি ওয়েবসাইটের পোস্ট বা আর্টিকেলকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে রেঙ্ক করানোর ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

আরো পড়ুন:


অন পেজ এসইও কি?

কোন একটি ওয়েবসাইটকে নির্দিষ্ট “কিওয়ার্ড” অনুযায়ী গুগলে প্রথম পেজে আনার জন্য ওয়েবসাইট এর ভিতরে যে সকল কাজ করা হয়, সেই কাজগুলোকে বলা হয় অনপেজ এসইও। আর ব্লগিং এর তৃতীয় পর্বে আপনারা ওয়েবসাইটের ভিতরে যে সকল কাজ করেছেন সেগুলোও অনপেজ এসইওর একটি অংশ।

আবার কোন একটি ওয়েবসাইটের কনটেন্ট, আর্টিকেল অথবা পোস্ট যাই বলেন না কেন সেটিকে নির্দিষ্ট এক বা একাধিক “কিওয়ার্ড” অনুযায়ী গুগলের প্রথম পেজে আনার জন্য এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে হয়। একটি ব্লগের জন্য এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্টের গুরুত্ব অপরিসীম। ওয়েবসাইটের নানা ধরনের সেটিংস যুক্ত বা পরিবর্তন করা, কিওয়ার্ড অনুযায়ী আর্টিকেল লেখা এই সম্পূর্ণ ব্যাপারটি হচ্ছে অনপেজ এসইও।

কিওয়ার্ড কি?

ধরুন, আপনি অনলাইনে লেখালেখি করে আয় করা যায় এমন ওয়েবসাইট খুঁজছেন বা এটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছেন। এখন আপনি গুগলে গিয়ে কি লিখে সার্চ দিবেন? আমি ধরে নিলাম “লেখালেখি করে আয় করার ওয়েবসাইট” লিখে সার্চ দিলেন। আর আপনার সামনে কতগুলো ওয়েবসাইট আসলো। এখন আপনি গুগলে যা লিখে সার্চ করেছেন অথবা করেন সেগুলোই হচ্ছে এক একটি কিওয়ার্ড। আর যেই ওয়েবসাইটগুলো সবার প্রথমে এসেছে, সেই ওয়েবসাইটগুলো উক্ত কিওয়ার্ড অনুযায়ী এসইও ফ্রেন্ডলি হাই কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট লিখেছে। যার কারনে গুগল সেই ওয়েবসাইটগুলোকে সার্চ রেজাল্টের প্রথম দেখাচ্ছে। 

উদাহরণস্বরূপ, নিচের ছবিটি খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। এখানে একটি আর্টিকেল “বিকাশ 1 টাকা অফার” এই কিওয়ার্ড এর উপর ভিত্তি করে লিখা হয়েছে। যার কারণে এই পোস্টটি সবার প্রথমে রয়েছে।

ব্লগার অন পেজ এসইও

কিওয়ার্ড অনুযায়ী কেন আর্টিকেল লিখব?

আপনি যদি গুগল থেকে অর্গানিক ভিজিটর পেতে চান, তাহলে আপনাকে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড অনুযায়ী আর্টিকেল লিখতে হবে। তবে মনে রাখবেন, নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো একটি কী-ওয়ার্ড এর উপরে আর্টিকেল লিখলেই হবেনা। সেই কিওয়ার্ডটির মাসিক সার্চ ভলিউম থাকতে হবে। কারণ কি-ওয়ার্ডের যদি মাসিক সার্চ ভলিয়ম না থাকে, মানুষ যদি সেই কিওয়ার্ডটির দিয়ে গুগলে সার্চ না করে- তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটি প্রথম পেজে থাকলেও কোন ভিজিটর পাবেন না। 

তবে ব্যাপারটি নিয়ে কোন প্রকার ঘাবরাবেন না। নতুন অবস্থায় এগুলো বুঝতে একটু সমস্যা হতে পারে। এই ব্যাপার গুলো নিয়ে আমরা পরবর্তীতে কিওয়ার্ড রিসার্চ পর্বে আরো বিস্তারিত আলোচনা করব। তবে আপনি যদি নিউজ ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেন সেক্ষেত্রে আপনার কিওয়ার্ড রিসার্চের কোন প্রয়োজন নেই। কারণ নিউজ বা খবর শুধুমাত্র সাময়িক সময়ের জন্য, এটি প্রতিদিনই আপডেট বা চেঞ্জ হয়।

কিভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখবেন?

নিশ্চয়ই আপনি এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল এর গুরুত্ব বুঝে গেছেন। যদিও আপনি এখনো কিওয়ার্ড রিসার্চ সম্পর্কে জানেন না, তবে এখন আমি আপনাকে এমন একটি টিপসের কথা বলব যেটা ফলো করে ভাল রেজাল্ট পেতে পারেন। আপনি যে নিস বা টপিক নিয়ে কাজ করেন না কেন, আপনি এই টিপসটি ফলো করতে পারেন। 

ধরে নিলাম, আপনি অনলাইন ইনকাম এর উপরে একটি আর্টিকেল লিখবেন। কিন্তু কিওয়ার্ড কি দিবেন? কিওয়ার্ড কোথায় পাবেন? তার জন্য সর্বপ্রথম চলে যাবেন গুগলে এবং আপনার মাথায় যেই কিওয়ার্ডটি আসবে সেটি দিয়ে সার্চ করুন। আমি “অনলাইনে ইনকাম” লিখে সার্চ দিলাম। এরপর নিচে দেখুন অনেকগুলা রেজাল্ট দেখা যাচ্ছে। আর এগুলোই হচ্ছে এক একটি কিওয়ার্ড। অর্থাৎ, এগুলো লিখে মানুষ বিভিন্ন সময় গুগলে সার্চ করে থাকে।

ব্লগার অন পেজ এসইও

এখান থেকে সবগুলো কিওয়ার্ড কপি করে নিন। কপি করার পর চলে যান আপনার Google Keyword Planner অ্যাকাউন্টটিতে। এবার কপি করা সবগুলো কিওয়ার্ডকে গুগল কিওয়ার্ড প্লেনারের সার্চ বক্সে পেস্ট করে দিন।


বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম
এবার লোকেশন অপশন দিতে অপশনটিতে ক্লিক করে টার্গেটেড লোকেশনটি কেটে দিন। তারপর নিচে একটি save বাটন দেখতে পাবেন, সেখানে ক্লিক করে সেভ করে দিন।

বাংলা কন্টেন্ট রাইটিং
বাংলা কন্টেন্ট রাইটিং

আপনি বাংলা অথবা ইংরেজি যে ধরনের কনটেন্ট লিখেন না কেন, টার্গেটেড লোকেশন দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ আপনার সাইটটি সকল দেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আপনি চাইলে নির্দিষ্ট কোন দেশকে টার্গেট করে দিতে পারেন, এতে কোন সমস্যা নেই। কারন আমরা যারা বাংলা কনটেন্ট নিয়ে কাজ করি, তাদের ভিজিটরদের প্রধান একটি অংশ হচ্ছে বাংলাদেশ এবং ভারত। তাই বাংলা কনটেন্ট লেখার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ টার্গেটেড লোকেশন এর জায়গায় বাংলাদেশ এবং ভারত সিলেক্ট করে তারপর এখান থেকে কিওয়ার্ড আইডিয়া নিয়ে থাকেন। তবে আমার মতে এখানে কোন লোকেশন সিলেক্ট না করাই ভালো। যাইহোক, এবার “Get Resut” অপশনটিতে ক্লিক করুন। 

কনটেন্ট রাইটিং টিপস
কনটেন্ট রাইটিং টিপস

Get Result অপশনটিতে ক্লিক করার পর আপনি যদি বাংলা কনটেন্টের জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করেন, তাহলে ল্যাঙ্গুয়েজ অপশন থেকে  বাংলা সিলেক্ট করে দিবেন। আর যদি ইংরেজি  কনটেন্টের জন্য হয়ে থাকে তাহলে ইংরেজি সিলেক্ট করে দিবেন।

কন্টেন্ট লেখার নিয়ম

এবার একটু নিচে আসলেই এই সকল কিওয়ার্ডের গড় মাসিক সার্চ ভলিয়ম দেখতে পারবেন। যে কি-ওয়ার্ডগুলোর সার্চ ভলিয়ম বেশি সেগুলো থেকে পছন্দমত যেকোনো একটি কিওয়ার্ড বাছাই করে নিন। আমি "লেখালেখি করে আয়" এই কিওয়ার্ডটি বাছাই করে নিলাম। কারণ এই কী-ওয়ার্ডটির মাসিক ভালো সার্চ ভলিয়ম রয়েছে। প্রতিমাসে 100 থেকে 1000 জন মানুষ এটি লিখে গুগলে সার্চ করে থাকেন। 
কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়

এভাবে আপনি আপনার টপিকের উপর পছন্দমত নির্দিষ্ট একটি কিওয়ার্ড বাছাই করে নিন। আর বাছাইকৃত কিওয়ার্ড এর উপরে আর্টিকেল লেখার চিন্তা ভাবনা শুরু করুন। তবে আর্টিকেল লেখার পূর্বে কিছু বিষয় অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নিবেন। 

আর্টিকেল লেখার পূর্বে যে বিষয়গুলো অনুসরণ করবেন

  • আপনার বাছাই করা কিওয়ার্ডটি দিয়ে গুগলে সার্চ করুন। 
  • সর্বপ্রথম কোন ওয়েবসাইট গুলো রয়েছে সেগুলো যাচাই করুন। 
  • সার্চ রেজাল্টের প্রথম থাকা 4/5 টি ওয়েবসাইট ওপেন করুন
  • তারা কিভাবে এবং কত ওয়ার্ডের আর্টিকেল লিখেছে সেটি দেখুন। 

এতে করে অন্যরা কিভাবে লিখেছে সে সম্পর্কে আইডিয়া পেয়ে যাবেন। তারপর আপনি আপনার নিজের মতো করে সাজিয়ে গুছিয়ে একটি আর্টিকেল লিখতে পারবেন। গুগোল সার্চ এবং কিওয়ার্ড প্লানার ব্যবহারের ফলে আপনি দুই ধরনের সুবিধা পাবেন। একটি হল- ভালো সার্চ ভলিউম যুক্ত কিওয়ার্ড পাবেন এবং নতুন নতুন কনটেন্টের আইডিয়া পেয়ে যাবেন। 

এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট লেখার উপায়

এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট লেখার জন্য সর্বপ্রথম ব্লগারের ড্যাশবোর্ড থেকে “New post” এ চলে যান। এবার পোস্টের জন্য 50-70 ওয়ার্ডের মধ্যে একটি টাইটেল নির্বাচন করুন। টাইটেল এর মধ্যে অবশ্যই আপনার মেইন ফোকাস কিওয়ার্ডটি থাকতে হবে। টাইটেলের পর বডিতে সর্বপ্রথম বা আপনার পছন্দ মত যে কোন একটি জায়গায় মেজর হেডিং ব্যবহার করুন। মেজর হেডিং বা H1 ট্যাগ এর মধ্যেও অবশ্যই মেইন ফোকাস কিওয়ার্ডটি থাকতে হবে। তবে আমার মতে মেজর হেডিং সর্বপ্রথম থাকাই সবচেয়ে ভালো। আবার বডির প্রথম প্যারার মধ্যে মেইন ফোকাস কিওয়ার্ডটি থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপ নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন।
 
আর্টিকেল লেখার নিয়ম

এখানে প্রধান কিওয়ার্ডটি হচ্ছে লেখালেখি করে আয়। টাইটেল এবং হেডিং এর প্রথমে অথবা শেষে মানুষ সার্চ করতে পারে এমন কিছু শব্দ যুক্ত করে দিবেন। যেমন ছবিটিতে Mejor Heading এ রয়েছে অনলাইনে লেখালেখি করে আয়। অর্থাৎ কেউ যদি “অনলাইনে লেখালেখি করে আয়” এই সম্পূর্ণ কিওয়ার্ডটি দিয়েও সার্চ করে তাহলে যেন তার সামনে গুগল এই কনটেন্টটি দেখায়। সবসময় ঠিক এমনভাবে লেখার চেষ্টা করবেন। তবে একটি পোস্টের মধ্যে আপনার মূল কী-ওয়ার্ডটি চার থেকে পাঁচ জায়গায় অথবা প্রাসঙ্গিকভাবে লেখার মধ্যে যতবার আসে ততবার ব্যবহার করতে পারেন।

কনটেন্ট লেখার সময় কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন?

  • অপ্রাসঙ্গিক কোন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করবেনা। অর্থাৎ টাইটেল এবং হেডিং এর সাথে মিল রেখে কনটেন্ট লিখুন।
  • পোস্টের শুরুতেই একটি ভূমিকা অর্থাৎ সম্পূর্ণ পোস্টটিতে কি রয়েছে সে সম্পর্কে  লিখুন।
  • একই কিওয়ার্ড অতিরিক্ত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। 
  • কনটেন্টের মধ্যে কমপক্ষে প্রাসঙ্গিক একটি ছবি যুক্ত করতে ভুলবেন না। আর ছবিটি অবশ্যই কিওয়ার্ড অনুযায়ী এসইও করে তারপর যুক্ত করবেন। অবশ্যই ছবিটি কপিরাইট ফ্রি অথবা নিজের তৈরি হতে হবে। 
  • ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল লিংক যুক্ত করুন।
  • কম্পিটিটর বা আপনার নির্বাচিত কিওয়ার্ডটি দিয়ে সর্বপ্রথম যে ওয়েবসাইটগুলো রয়েছে, তাদের থেকে তথ্যবহুল এবং বড় কনটেন্ট লেখার চেষ্টা করুন।
  • ভুল তথ্য এবং অন্যের ওয়েবসাইট থেকে লেখা কপি করা থেকে বিরত থাকুন। অর্থাৎ কনটেন্টটি সম্পূর্ণ আপনার নিজের ইউনিক লেখা হতে হবে।
  • আপনি এখন যেই কন্টেন্টটি পড়ছেন সেই কনটেন্টের মত করে আপনি আপনার কনটেন্টটি প্যারা আকারে লিখুন। 
  • কনটেন্টের মাঝে অতিরিক্ত গ্যাপ বা ফাঁকা জায়গা রাখা থেকে বিরত থাকুন। 

Image এসইও করার উপায়

ইমেজ একটি ওয়েবসাইটের কনটেন্টকে গুগলে রেংক করানোর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আপনার কন্টেন্টে অবশ্যই একটি প্রাসঙ্গিক ইমেজ এসইও করে তারপর যুক্ত করে নিতে হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ব্লগ পোস্টের ইমেজ এসইও কিভাবে করবেন এই আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে নিবেন। এখানে দেখানো নিয়ম অনুসরণ করে আপনি যেকোন ইমেজকে গুগল সার্চের প্রথমে আনতে পারবেন। 

আবার যেকোনো জায়গা থেকে ছবি সংগ্রহ করে সেটিকে ব্লগে আপলোড দিলেই হবে না। এতে করে কপিরাইট ক্লেইম আসতে পারে। যার কারনে আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট ডাউনসহ নানান ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আপনাকে অবশ্যই কপিরাইট ফ্রি ছবি ব্লগ পোস্টে যুক্ত করতে হবে। এর জন্য কপিরাইট ফ্রি ছবি কোথায় পাবেন এই আর্টিকেলটি দেখে দেখে নিবেন। 

ইন্টারনাল/এক্সটারনাল লিংক যুক্ত করা

একটি ওয়েবসাইটের কনটেন্টকে সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুততম রেঙ্ক করানোর ক্ষেত্রে ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল লিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনিও আপনার আর্টিকেল এর মধ্যে ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল লিংক যুক্ত করে দিবেন। 

ইন্টারনাল লিংক কি?

ইন্টারনাল লিংক হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের একটি কনটেন্টের এর সাথে আপনার লেখা প্রাসঙ্গিক আরেকটি কনটেন্ট লিংক করে দেওয়া। উদাহরণস্বরূপ নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন, এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে “অনলাইন ইনকাম” এই লেখাটিতে এই ওয়েবসাইটেরই অনলাইনে টাকা ইনকাম এর আরেকটি পোস্টকে লিংক করে দেওয়া হয়েছে। আর এটি হচ্ছে ইন্টারনাল লিংক।
আর্টিকেল লেখার নিয়ম


কিভাবে ইন্টারনাল লিংক যুক্ত করবেন?

ইন্টারনাল লিংক যুক্ত করার জন্য সর্বপ্রথম যে লেখাটিতে লিংক যুক্ত করবেন সেই লেখাটিকে সিলেক্ট করুন। আমি “ব্লগিং করে টাকা আয়” এই লেখাটিতে ইন্টারনাল লিংক যুক্ত করব, যেন একজন ভিজিটর এই লেখাটির উপর ক্লিক করলে ব্লগিং করে টাকা আয় সম্পর্কে আমার লেখা আরেকটি আর্টিকেল পড়তে পারেন। তাই এই লেখাটি আমি সিলেক্ট করে নিলাম। তারপর উপরের Insert or edit link এই অপশনটিতে ক্লিক করুন।
কন্টেন্ট লেখার নিয়ম

তারপর আমার পূর্বে পাবলিশ করা “ব্লগিং করে আয়” ওই আর্টিকেলের লিংকটি কপি করে নিলাম।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

কপি করা লিঙ্কটি এখানে পেস্ট করে দিবেন। পেস্ট করার পর “Open this link in a new window” এই অপশনটি টিক চিহ্ন দিয়ে দিবেন। এরপর “Apply” অপশনটিতে ক্লিক করে দিলেই আপনার “ব্লগিং করে টাকা আয়” পোস্টটির সাথে এই পোস্টটির ইন্টারনাল লিংক হয়ে যাবে। 

আর্টিকেল লেখার নিয়ম


এটি পোস্ট গুগলে রেংকিং এর ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে ইন্টারনাল লিংক যুক্ত করার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত পরিমাণ কনটেন্ট সংখ্যা থাকতে হবে। কারণ আপনার ওয়েবসাইটে যদি কনটেন্ট না থাকে, তাহলে আপনার একটি পোষ্টের সাথে আরেকটি পোষ্টের লিংক কিভাবে যুক্ত করবেন? তবে ইন্টারনাল লিংক যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন, আপনি যে টপিকের উপর পোস্ট লিখবেন সেই পোষ্টের সাথে মিল রয়েছে এমন পোষ্টগুলোকে বর্তমান পোস্টে ইন্টারনাল লিংক হিসেবে যুক্ত করবেন।

এক্সটার্নাল লিংক কি? 

আপনার নিজের ওয়েবসাইটের কনটেন্টের মধ্যে অন্য ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যুক্ত করাকে বলা হয় এক্সটার্নাল লিংক। উদাহরণস্বরূপ নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন। ছবিটিতে Fiverr, Upwork, Freelancer, hirewriter এই টেক্সটগুলোতে ওই ওয়েবসাইট গুলোর লিংক যুক্ত করা হয়েছে। আর এগুলোই হচ্ছে এক্সটার্নাল লিংক।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

এক্সটার্নাল লিংকও গুগলে কোন একটি পোস্টকে রেংক করানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্সটার্নাল লিংক ইন্টারনাল লিংকের মত করেই যুক্ত করতে হয়। তবে ওয়েবসাইট নতুন অবস্থায় এক্সটার্নাল লিংক যুক্ত না করাই ভালো। 

কপিরাইট ফ্রি কনটেন্ট লিখুন

কোন একটি পোস্টকে গুগলে রেংকিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ইউনিক বা নিজের লেখা কনটেন্ট। অনেক সময় নিজে লেখার পরেও কনটেন্ট অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে অনেকটাই মিলে যায়, যদিও খুব কম সময় এমন হয়। আপনি যেভাবেই লেখেন অথবা কাউকে দিয়ে লেখান না কেন আপনার কনটেন্ট ইউনিক কিনা তা চেক করে তারপর আপনার ব্লগে পাবলিশ করবেন। তার জন্য ইউনিক কন্টেন্ট চেক করার উপায় সম্পর্কে এই আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে নিবেন। 

কনটেন্ট প্যারা আকারে লিখুন

যখন কোন একটি কনটেন্ট লিখবেন তখন এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ অনেক কথা একসাথে না লিখে প্যারা আকারে লিখুন। তাছাড়া কনটেন্টের মধ্যে প্রধান বিষয়গুলোকে "সাব হেডিং" আকারে তুলে ধরুন আর তারপর সেগুলোর বর্ণনা লিখুন। উদাহরণস্বরূপ নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন: 

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

আর্টিকেল পাবলিশ করার পূর্বে যা করবেন

আর্টিকেল পাবলিশ করার পূর্বে তিনটি বিষয় অবশ্যই যুক্ত করে নিবেন। আর এই তিনটি বিষয় হলো:-
  • পোষ্টের লেভেল যুক্ত করা, আর অপরটি হল
  • পার্মালিংক যুক্ত করা
  • মেটা ডেসক্রিপশন যুক্ত করা

পোষ্টের লেভেল যুক্ত করা

আপনি যেই টপিকের উপরে আর্টিকেল লিখবেন, সেই আর্টিকেলটি পাবলিশ করার পূর্বে টপিক রিলেটেড লেভেল বা ট্যাগ যুক্ত করে দিন। এই কাজটি করার জন্য বাম পাশে থাকা “Level” অপশনটিতে ক্লিক করে ট্যাগগুলো যুক্ত করে দিবেন।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

এখানে আপনি একটি পোস্টের জন্য এক বা একাধিক ট্যাগ বা লেভেল যুক্ত করতে পারবেন। তবে একাধিক ট্যাগ বা লেবেল যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি লেভেলের পর কমা দিয়ে আরেকটি লেবেল দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ- আর্টিকেল লেখার নিয়ম, বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম, কনটেন্ট লেখার নিয়ম, কনটেন্ট রাইটিং টিপস, বাংলা আর্টিকেল রাইটিং। অর্থাৎ আপনি যদি বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়মের উপরে কনটেন্ট লিখেন, তাহলে আপনাকে এভাবে কমা ব্যবহার করে ট্যাগগুলো লেভেলের মধ্যে দিতে হবে।

পার্মালিংক যুক্ত করা

কোন একটি ব্লগ পোস্টকে গুগলের রেঙ্ক করানোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পার্মালিংক। পার্মালিংক হল ব্লগ পোষ্টের ইউআরএল। পোস্টের ডিফল্ট পার্মালিংক পরিবর্তন করে পার্মালিংকের এর মধ্যে আপনার মূল কী-ওয়ার্ডটি যুক্ত করে দিন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত ভিডিওটি দেখে জেনে নিন। 


মেটা ডেসক্রিপশন যুক্ত করা

মেটা ডেসক্রিপশন এর অপর নাম হচ্ছে সার্চ ডেসক্রিপশন। মেটা ডেসক্রিপশনও এসইও এর ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ কোন একটি পোস্টকে সার্চ ইঞ্জিনে রেঙ্ক করানোর জন্য মেটা ডেসক্রিপশন এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এটি প্রতিটি পোস্টের জন্য 150 বর্ণের মধ্যে আলাদাভাবে এটি যুক্ত করতে হয়। আর এই মেটা ডিসক্রিপশন এর মধ্যে অবশ্যই আপনার পোষ্টের জন্য নির্বাচিত প্রধান কিওয়ার্ডটি থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপ নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন- 

বাংলা কন্টেন্ট রাইটিং

মেটা ডেসক্রিপশন পোস্টের টাইটেল এর নিচে শো করে। অনেক ব্লগার রয়েছেন, যারা এই মেটা ডিসক্রিপশন এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে পোস্ট অনুযায়ী কতগুলো কিওয়ার্ড দিয়ে দেন। এটি করা একেবারেই উচিত নয়। এমন করলে একটি ব্লগ পোস্ট সাময়িক সময়ের জন্য গুগলে রেঙ্ক করে কিন্তু পরবর্তীতে ডাউন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

তাই আপনাকে প্রত্যেকটি পোস্টের মেটা ডেসক্রিপশন কিওয়ার্ড অনুযায়ী প্রাসঙ্গিকভাবে কিছু লিখে উপরের ছবিটির মতো যুক্ত করে দিতে হবে। মেটা ডিস্ক্রিপশন যুক্ত করার জন্য পোস্ট এডিটের ডানদিকে সার্চ ডেসক্রিপশন নামক একটি অপশন দেখতে পাবেন। এখানে ক্লিক করে 150 বর্ণের মধ্যে পোষ্টের টপিক রিলেটেড মেটা ডেসক্রিপশন দিতে ভুলবেন না।

কনটেন্ট রাইটিং

সবকিছু ঠিকঠাক মত করার পর অবশেষে "Publish" বাটনে ক্লিক করে পোস্টটি পাবলিশ করে দিন

বোনাস টিপস

আপনার যখন কোন একটি ব্লগ পোস্ট লেখা শেষ হয়ে যাবে, তখন সেই লেখাগুলোকে জাস্টিফাই আলাইনমেন্ট করে দিবেন। এতে করে পোষ্টের লেখাগুলো বইয়ের লেখার মত দুই পাশে সমান ও সুন্দর দেখা যাবে। এটি কিভাবে করতে হয় তা নিচের ছবিটি দেখলেই ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। 

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

আবার অন্যদিকে অনেকেই রয়েছেন, যাদের একপর্যায়ে লেখালেখি করতে বিরক্ত লাগে অথবা টাইপিং স্পিড কম। যার কারনে অনেক মানুষ ব্লগিং থেকে দূরে সরে যায়। এরকম মানুষদের জন্য খুব সুন্দর একটি টিপস হল- মুখে বলে ব্লগে লেখা। মুখে বলে খুব দ্রুত লেখা সম্ভব। এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে মুখে বলে লেখার উপায় আর্টিকেলটি পড়ে নিতে পারেন।

আজকের টপিকের শেষ কথা

আশা করি, আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে অনেকটা ধারণা পেয়েছেন। নতুন অবস্থায় হয়তো একটু কঠিন অথবা বুঝতে সমস্যা হতে পারে। তবে আপনি যখন ব্লগিং সেক্টরটিতে কাজ করবেন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আস্তে আস্তে ধারণা পেয়ে যাবেন। আর একসময় খুব ভাল কনটেন্ট রাইটিং শিখে যাবেন। ভালো একজন কনটেন্ট রাইটার হতে পারলে আপনি যেকোন পোস্টকে গুগলের প্রথম পাতায় আনতে সক্ষম হবেন।

7 মন্তব্যসমূহ

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

নবীনতর পূর্বতন