নতুন অবস্থায় আমরা যারা ব্লগিং শুরু করতে চাই অথবা ব্লগিং শুরু করি, তারা নানা ধরনের ভুল করে থাকি। যার কারণে ব্লগের মাধ্যমে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে ব্যর্থ হই। আর এই ভুলগুলো করার পেছনে একমাত্র কারন হলো ব্লগিং এর গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পর্কে না জানা। তাই আজকের এই টপিকে ব্লগিং শুরু করার মৌলিক পাঁচটি ধাপ সম্পর্কে আলোচনা করব। 
ব্লগিং-শুরু-করার-ধাপ

এখানে এমন পাঁচটি ধাপ তুলে ধরা হয়েছে যেগুলোর ছাড়া আপনি ব্লগিং শুরু করতে পারবেন না। আর শুরু করলেও ব্লগিং সেক্টরটিতে নিজের সফলতা আনতে পারবেন না। তাই ব্লগিং শুরু করার পূর্বে আজকের টপিকটি ভালোভাবে পড়ে নিন। আর যারা ইতিমধ্যেই ব্লগিং শুরু করে দিয়েছেন তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি অনেক উপকারে আসবে।

ব্লগিং সম্পর্কে কিছু কথা

ব্লগিং হচ্ছে লেখালেখি করে আয় করার জন্য একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। ঘরে বসে অনলাইনে অর্থ উপার্জনের জন্য যতসব সহজ এবং স্বাধীন মাধ্যম রয়েছে তাঁর মধ্যে ব্লগিং হচ্ছে অন্যতম একটি পেশা।

ব্লগিং শুরু করার জন্য আপনার সর্বপ্রথম একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। নতুন অবস্থায় আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। আর সঠিকভাবে সময় দিলে একপর্যায়ে সে ওয়েবসাইট থেকে মাস শেষে ভালো পরিমাণ টাকা অনলাইন থেকে আয় করতে সক্ষম হবেন। ব্লগিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের ব্লগিং করে আয় পর্ব 1 পড়ে নিতে পারেন। প্রথম পর্ব টিতে ব্লগিং এর সুবিধা, ক্যারিয়ার এবং ইনকাম প্রুফ সহকারে ভিডিও তুলে ধরা হয়েছে। 

আরো পড়ুনঃ

 

ব্লগিং শুরু করার মৌলিক ধাপ

ব্লগিং এর মৌলিক ধাপগুলো মেনে আপনি যদি ব্লগিং শুরু করেন সেক্ষেত্রে খুব এই সেক্টরটিতে সহজেই সফলতা পেতে পারেন। এখন কথা হল এই ধাপ গুলো কি কি? ধাপগুলো হলোঃ-

পরিকল্পনা ও সাবজেক্ট বাছাই করা

ব্লগিং শুরু করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই টপিক বা সাবজেক্ট বাছাই করতে হবে। আপনি আপনার ব্লগে কি বিষয়ে কন্টেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি করবেন সেই বিষয়টি সবার প্রথমে আপনাকে নির্ধারণ করে নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই আপনার পছন্দের বিষয়টি নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে আপনি ব্লগিং-এর মজা বুঝতে পারবেন না। যার ফলে কিছুদিন ব্লগিং করার পর আর ব্লগিং এর প্রতি আপনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। কারণ ব্লগিং সেক্টরটিকে অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে কাজ করতে হয়। 


সাবজেক্ট বাছাই করার পর আপনাকে আপনার ব্লগ ওয়েবসাইট সম্পর্কে একটি পরিকল্পনা তৈরি করে নিতে হবে। ওয়েবসাইটটিতে কি কি থাকবে এবং কি কি থাকবে না সে অনুযায়ী সর্বপ্রথম ভালোভাবে পরিকল্পনা করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে ব্লগিং এর প্রকারভেদ আর্টিকেলটি অনেকটা সহায়তা করবে।

ডোমেইন নেম

আমরা জানি একটি ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে ডোমেইন নেমের দরকার হয়। আর এটি একটি ব্লগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মূলত ডোমেইন নেমের মাধ্যমে কোন একটি ব্লগের ব্র্যান্ড তৈরি করা হয়। তাই ডোমেইন নেম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। 

ডোমেইন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, যেমনঃ .com . net .org .xyz ইত্যাদি। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডোমেইন এক্সটেনশন হচ্ছে .com। আর এই কারনেই আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি টপ লেভেলের .com ডোমেইন নেয়ার চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে ডোমেইন নেমটি আপনার টপিক বা সাবজেক্ট রিলেটেড রাখলে সবচেয়ে উত্তম। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে যারা গুগলের ব্লগার প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন তারাও নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি টপ লেভেল ডোমেইন যুক্ত চেষ্টা করবেন। আর ডোমেইনের নামটি অবশ্যই ছোট রাখার চেষ্টা করবেন, যেন একবার দেখলেই একজন মানুষ সহজেই মনে রাখতে পারে।

ভালো মানের হোস্টিং

হোস্টিং হলো স্পেস বা জায়গা যেখানে কোন একটি ওয়েব সাইটের কনটেন্ট রাখা হয়। একটি ওয়েবসাইটকে সারাক্ষণ বিশ্বের কাছে একটিভ রাখার জন্য হোস্টিং এর প্রয়োজন পড়ে। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ভালো মানের হোস্টিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোন একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে রেংক করানোর জন্য ভালো মানের ওয়েব হোস্টিং এর কোন বিকল্প নেই।

ব্লগার প্ল্যাটফর্মটি ফ্রিতে প্রত্যেক গ্রাহককে 15 জিবি পর্যন্ত ওয়েব হোস্টিং দিয়ে থাকে। ব্লগারের হোস্টিং দিয়ে মোটামুটি চলা যায়। কিন্তু আপনি যদি তার থেকেও ভালো মানের হোস্টিং চান তাহলে আপনাকে কিনে নিতে হবে। এর জন্য বার্ষিক চার্জ দিতে হয়। সাধারণ একটি ব্লগের জন্য এক জিবি হোস্টিংই যথেষ্ট।


ভালো মানের একটি থিম

থিম হলো ওয়েবসাইটের ডিজাইন। একটি ওয়েব সাইটের যতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে তার মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো থিম। একটি ভাল মানের থিমও সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইটকে রেংক করানোর ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যার জন্য আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটে একটি ভালো মানের থিম ইনস্টল বা আপলোড করতে হবে।

তবে থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে থিমটি যেন মোবাইল এবং ডেক্সটপ ফ্রেন্ডলি হয় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। থিমের ডিজাইনটি যেন ভিজিটরদের পছন্দ হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভালো মানের থিম কিনতে পাওয়া যায়। আপনি চাইলে সেগুলো কিনে ব্যবহার করতে পারেন। আবার আপনি যদি চান তাহলে ডেভলপারকে দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু বানাতে গেলে খরচ একটু বেশি পড়বে। 

আপনার ইচ্ছাশক্তি

ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেটি হল- ইচ্ছাশক্তি। ব্লগিং হলো একটি ক্রিয়েটিভ পেশা। এখানে নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হয়। যার কারণে এখানে ইচ্ছাশক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

ব্লগিং করার প্রতি আপনার ইচ্ছাশক্তি যদি প্রবল হয় তাহলে অবশ্যই আপনি সফলতা পাবেন। কারণ ইচ্ছাশক্তি থাকলে আপনি ধৈর্য সহকারে লেগে থাকতে পারবেন। যার ফলে খুব সহজেই আপনি সফলতা পেয়ে যাবেন। আর ব্লগিং-এ একবার সফলতা পেয়ে গেলে আপনাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। যার ফলে সুন্দর ক্যারিয়ার বিল্ড আপ করতে পারবেন।

আজকের টপিকের শেষ কথা

উপরে তুলে ধরা ব্লগিং শুরু করার প্রধান পাঁচটি ধাপ মেনে যদি আপনি ব্লগিং শুরু করেন, তাহলে আশা করা যায় একসময় আপনি একজন প্রফেশনাল মানের ব্লগার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারবেন। 

আশা করি সম্পূর্ণ ব্যাপারটি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। তারপরও যদি কোথাও বুঝতে কোন সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদেরকে জানাতে পারেন। 

Post a Comment

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

নবীনতর পূর্বতন