অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

বর্তমান এই সময়ে আমাদের দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণী ঘরে বসে থেকেই অনলাইন ইনকাম (Online Income) করে জীবিকা নির্বাহ করছে। আপনিও নিশ্চয়ই অনলাইনে ইনকাম করার উপায় খুঁজছেন। আর যদি এটাই হয় তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক বেশি হেল্পফুল হবে। 

অনলাইন ইনকাম

আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা জানতে পারব যে, কিভাবে অনলাইনে ইনকাম করা যায়? তারপর পোস্টের মাঝামাঝি এবং শেষের অংশটিতে অনলাইন ইনকাম করার জন্য সবচেয়ে সহজ এবং সেরা কয়েকটি উপায় শেয়ার করা হবে। যেগুলো থেকে আপনি চাইলে সহজেই ঘরে বসে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে শুরুতে আমরা অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য জেনে নিব।

সূচনা

প্রযুক্তির এই যুগে বর্তমানে মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মানুষ প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। আর আমাদের এই অনলাইন এবং প্রযুক্তির উপর নির্ভর করার মানসিকতা ইন্টারনেটে ইনকামের অনেক পথ তৈরি করে দিয়েছে।

খুব সহজেই নানান ধরনের কাজ করে মানুষ ভালো পরিমানের অর্থ অনলাইনের মাধ্যমে আয় করছেন। আমাদের দেশ সহ পৃথিবীর নানান দেশের লাখ লাখ মানুষ এখন এই অনলাইন ইনকাম (Online Income) এর উপরে নির্ভরশীল।

আপনিও চাইলেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই নানান রকম পদ্ধতিতে ইনকাম করতে পারবেন। আপনি কি অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে চান? যদি আপনার উত্তর হয়- হ্যাঁ, তবে আজকের এই পোস্টটি সম্পুর্ণ আপনার জন্যই।

এই আর্টিকেলটিতে আমরা অনলাইন ইনকাম (Online Income) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব এবং সেই সাথে অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে সেরা এবং রিয়েল কিছু উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরব। আপনি যদি এই বিষয়ে নতুন হন তাহলে আজকের এই টপিকটি আপনাকে অনেক বেশী সাহায্য করবে।

অনলাইন ইনকাম কি?

ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা কে এক কথায় অনলাইন ইনকাম বলা হয়। এটি খুবই মজাদার একটি ব্যাপার। কারণ এর মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে টাকা উপার্জন করতে পারেন।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে সকল কাজ করে থাকি তার মধ্যে প্রায় সব ধরনের কাজই অনলাইনে রয়েছে। যখন আমরা সেই কাজগুলো অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকি এবং বিনিময় হিসেবে পারিশ্রমিক পাই সেটিই হচ্ছে অনলাইন ইনকাম।

আরো পড়ুন:

অনলাইন ইনকাম (Online Income) এর আদ্যোপান্ত 

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার ব্যাপারটি আজ হতে প্রায় ১০ বছর আগে ছিল অনেকটাই কঠিন। কিন্তু বর্তমানে আগের তুলনায় এটি অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে অনলাইন প্লাটফরমটি তরুণদের মাধ্যমে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। প্রায় 10 বছর আগেও অনলাইন ইনকামের কথা বাংলাদেশের মানুষ চিন্তাও করতে পারত না।

কিন্তু সেই স্বপ্ন দিন দিন তরুণদের মাধ্যমে সত্যি হয়ে উঠেছে। অনলাইনের মাধ্যমে বর্তমানে মানুষ শুধু অনলাইন ইনকামই নয়; শুধুমাত্র এই ইনকাম দিয়েই স্বচ্ছলতা আসছে অনেক পরিবারে। এমনকি এই ইনকামের মাধ্যমে হাজারো পরিবার তাদের সংসার চালিয়ে থাকে। 

এখন অনলাইনের মাধ্যমে আধুনিক এই পৃথিবীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত থেকে শুরু করে প্রায় সকল ক্ষেত্রের কাজগুলো অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আগেকার সময়ে আপনি যখন কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চাইতেন, তখন সেই প্রতিষ্ঠান হতে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করতে হতো।

কিন্তু এখন আপনি চাইলেই দেশের যে কোনো জায়গা থেকেই অনলাইনে ভর্তি ফর্ম সংগ্রহ করে তা পূরণ করতে পারবেন, এমনকি অনলাইনের মাধ্যমে জমাও দিতে পারবেন। বর্তমানে দেশী-বিদেশী বেশিরভাগ চাকরির আবেদনগুলোও অনলাইনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এসকল বিভিন্ন কাজ বিভিন্ন জায়গায় বসে থেকে অনলাইনে সম্পাদনের জন্য অনলাইনে বিভিন্ন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এই কাজটি করার জন্য প্রয়োজন হল শুধুমাত্র একটি ডিজিটাল ডিভাইস (Digital Device)।

অনলাইন জগতে আসার সময় আপনাকে কেউ গ্যারান্টি সহকারে বলতে পারবে না যে, আপনি শুরুতেই লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।  তবে আপনার মধ্যে যদি ধৈর্য এবং লেগে থাকার সাহস থাকে, আপনি যদি কোন একটি নির্দিষ্ট কাজে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারেন, সেক্ষেত্রে বলা যায় যে আপনি প্রতিমাসে অনলাইন থেকে অনেক বড় পরিমানের অর্থ ইনকাম করতে পারবেন।

আপনি কিভাবে অনলাইনে ইনকাম করবেন? (How To Online Income)

বাংলাদেশ অনলাইন ইনকামের ব্যাপারটি অনেকাংশেই নতুন। তবে আমাদের দেশে এই ব্যাপারটি অনেকটা নতুন মনে হলেও এটি অনলাইনে ইনকাম সারা পৃথিবীতে শুরু হয়েছে আজ থেকে প্রায় অনেক আগেই।অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি না জানার কারণেই। এ কথাটি একদম সত্যি যে, জীবনে স্বাধীনভাবে কাজ করে নিজের স্বাধীন একটি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ খুব কম পেশায় পাওয়া যায়। বলতে গেলে একেবারে দেখা যায়না।

এছাড়াও অনলাইনে ইনকাম (Online Income) করার জন্য খুব বেশী কিছুর প্রয়োজন হবে না। আপনি আপনার মেধা শক্তিকে কাজে রূপান্তর করে সঠিক জায়গায় পরিশ্রম করলে খুব সহজেই কোনো একটি কাজে দক্ষ হয়ে সেই কাজটি থেকে নিয়মিত ইনকাম করতে পারেন।

আপনি ছেলে-মেয়ে, শিক্ষক, ছাত্র, চাকরিজীবী অথবা গৃহিণী যাই হন না কেন, আপনি এই অনলাইন সেক্টর থেকে আয় করতে পারবেন। আপনি স্টুডেন্ট অবস্থায় অর্থাৎ একজন ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে আপনার নিজের লেখা পড়ার খরচ যদি আপনি নিজেই জোগাড় করতে পারেন, তাহলে কি সেটা মন্দ হবে? অবশ্যই না, তাই না? 

আমরা তো প্রতিদিন ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব সহ নানান জায়গায় প্রচুর পরিমাণে সময় ব্যায় করে থাকি। চাইলে ওই সময়গুলোকে শুধুমাত্র চ্যাটিং আর নিউজফিড ঘুটে নষ্ট না করে কাজে লাগিয়ে পার্ট টাইম হিসেবে এখান থেকে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব।

এছাড়াও লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে বা অবসর সময়ে যদি এই কাজগুলো করেন তাহলে দেখবেন আপনার সময়ও নষ্ট বা অপচয় হচ্ছেনা এবং পাশাপাশি কোনো প্রকার খারাপ কাজের দিকে মনও যাচ্ছেনা। তাছাড়া যখন আপনি নিজের খরচ নিজেই জোগাড় করবেন, তখন দেখতে পাবেন আপনার নিজের মনের ভেতরে অন্যরকম একটা প্রশান্তি এবং সন্তুষ্টি কাজ করছে; অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করছে।

তাই আমি মনে করি আপনাকে অবশ্যই এই কাজের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করা উচিত। অনলাইন ইনকাম (Online Income)  শুরু করার জন্য আপনার একেবারেই তেমন কিছুর প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র একটি ডিজিটাল ডিভাইস, ইন্টারনেট সংযোগ, ধৈর্য এবং সেই সাথে কাজ করার ইচ্ছা এই কয়েকটি থাকাটাই একদম যথেষ্ট। কিভাবে কি করবেন তার বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

অনলাইন আয় করার সেরা কিছু উপায়

অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে হয়তো আমরা সবাই চাই। কে না চায়! তাই না? প্রায় আমাদের সকলেরই এইরকম একটা ইচ্ছে থাকে যে, থাকে অনলাইন থেকে আয় করার। অনেক অনলাইন ইনকাম সোর্স রয়েছে। তার মধ্যে ভালো এবং খারাপ দুটোই রয়েছে। ফেইক এবং রিয়েল এ দুটোও রয়েছে। এগুলো থেকে আপনাকে সঠিক কাজ গুলো খুঁজে নিতে হবে। এছাড়া সব জায়গায় প্রতারিত হবেন এবং সঠিক না জানলে অনলাইন থেকে আয়ও করতে পারবেন না।

আমরা আজকের এই পোস্টে অনলাইন ইনকামের সবচেয়ে সহজ এবং সেরা কিছু উপায় সম্পর্কে জানব। যেগুলো থেকে আপনি স্বাধীনভাবে এবং নিশ্চিন্তে আয় করতে পারবেন।  সেইসাথে কিছুদিন পর মাস শেষে স্বচ্ছলভাবে মোটা অংকের টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন। 

বর্তমানে অনলাইনে ইনকাম করার জন্য অসংখ্য মাধ্যম রয়েছে যেখান থেকে আপনি বুদ্ধি খাটিয়ে ইনকাম করতে পারবেন। তবে এগুলোর মধ্যে থেকে সবচেয়ে সেরা উপায়গুলো নিচে দেয়া হলোঃ

1. ব্লগিং (Blogging) করে আয়

ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করার জন্য যতসব কার্যকরী মাধ্যম রয়েছে তারমধ্যে ব্লগিং বেশ পুরাতন এবং অনেক কার্যকরী একটি মাধ্যম। একজন ব্যক্তি ব্লগিং করার মাধ্যমে বেশ ভালো পরিমাণ একটা টাকা প্রতি মাসেই ইনকাম করতে পারেন।

অনলাইনে টাকা আয়

এটি মূলত একটি ডিজিটাল সংবাদপত্র বা সংবাদ মাধ্যম অথবা ডিজিটাল ডাইরির মতো। এখানে আপনি আপনার মনের মত করে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে লেখালেখি করবেন। অবশ্যই যে বিষয়টি আপনি দেখতে পছন্দ করেন,  জানেন বা পারেন সে বিষয় সম্পর্কে লিখবেন। যার ওই বিষয়টি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন সে আপনার লেখাগুলো সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ করে পড়বে।

ঠিক এই মুহূর্তে আপনি যে লেখাটি এখানে পড়ছেন এটিও একটি ব্লগ। সুতরাং বিষয়টা সম্পর্কে অনেকটাই হয়তো বুঝেই গেছেন। লেখালেখি করার প্রতি আপনার যদি আগ্রহ বা ইচ্ছা থাকে, তাহলে আপনি ব্লগিং করার মাধ্যমে খুব সহজেই একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করে এখান থেকে ইনকাম করতে পারেন।

যে বিষয়টির প্রতি আপনার আগ্রহ রয়েছে, পছন্দ করেন এবং অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান বেশি সেই বিষয়ের উপরে ব্লগিং করলে তা সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। কেননা ব্লগিং পেশা অনেকটা শখের মত। তাই আপনি যে বিষয়টির উপরে অনেকটা পারদর্শী সেই নিশ (niche) বা বিষয়ের উপরে কাজ করতে পারেন।

মূলত নিশ (niche) বলতে কোন একটি নির্দিষ্ট টপিকঃ বা বিষয় অথবা বিভাগকে বুঝানো হয়। যেমন:- প্রযুক্তি, খেলাধুলা, রান্নাবান্না, আইন, স্বাস্থ্য, জীবনী, ভ্রমন, ইত্যাদি। উদাহরণ স্বরূপ আপনি আমাদের এই ব্লগ ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখলে বুঝবেন যে, আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র অনলাইন ইনকাম এর উপরে লেখালেখি করে থাকি। আর এটিই একটি নিশ বা টপিক।

এখন অনেকের মনে হয়তো একটি প্রশ্ন জেগেছে যে, আমরা কোথায় ব্লগ লেখা লিখি করব? এক্ষেত্রে সব থেকে ভালো পরামর্শ হলো আপনি নিজে নিজেই একটি ব্লগ ওয়েবসাইট বানিয়ে নিন। গুগোল সহ বহু কোম্পানি এখন আমাদেরকে অনেক সহজেই কোনো প্রকার টাকা খরচ ছাড়াই ব্লগ সাইট বানানোর সুযোগ দিচ্ছে।

আমরা যারা নতুন অবস্থায় অনলাইনে ইনকাম করতে চাই তাদের বেশিরভাগেরই পকেট ফাঁকা থাকে। টাকা এবং নতুন অবস্থা দুটোর কথা চিন্তা করলে দেখা যায় যে, ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি তৈরি করে কাজ শুরু করাটাই হল বেস্ট। তাই দেরি না করে ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরী করার উপায় সম্পর্কে এখনি জেনে নিন। 

তাছাড়া আপনার কাছে যদি নতুন অবস্থায় ইনভেস্ট করার মত সামর্থ্য থাকে, তাহলে আমাদের পরামর্শ কিছু পরিমাণ টাকা খরচ করার মাধ্যমে একটি টপ লেভেল ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় করে একটি আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট তৈরি করুন। এরপর সেই ওয়েবসাইটটিতে আপনার লেখাগুলি পাবলিশ করতে শুরু করুন। দেখবেন বেশ ভালো ফল পাচ্ছেন।

ইনভেস্ট করতে হলে আপনি যা যা কিনবে তা হল- একটি ডটকম ডোমেন, এক জিবি হোস্টিং এবং একটি ফ্রি থিম। এই তিন প্রকার জিনিসই ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য যথেষ্ট। এক্ষেত্রে আপনার 2500 টাকা থেকে 3000 টাকার মতো খরচ হতে পারে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানি নানান ধরনের অফার দিয়ে থাকে তারই পরিপ্রেক্ষিতে দাম কম বেশি হতে পারে। এক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন নামকরা ডোমেইন-হোস্টিং প্রোভাইডার কোম্পানি গুলোর কাছ থেকে সার্ভিস নেওয়ার জন্য।


তবে আপনি যদি ফ্রী ব্লগিং না করে কিছু পরিমাণ টাকা ইনভেস্ট করে ব্লগিং শুরু করেন তাহলে আপনার ব্র্যান্ডিংটা ভালো হবে আর একই সাথে ইনকাম এর পরিমানও অনেক বেশি হবে। তাছাড়া আপনি যদি ভবিষ্যতে আপনার ওয়েবসাইটে বিক্রি করতে চান, সেক্ষেত্রেও অনেক ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন। একটি ভালো ওয়েবসাইট এর মূল্য ক্ষেত্র বিশেষে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আর আপনি যদি সম্পূর্ণ ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করে কাজ করতে চান সেক্ষেত্রে গুগল আপনাকে সম্পূর্ণ ডোমেইন দিবে না। সেক্ষেত্রে আপনি পাবেন একটি সাব ডোমেইন। গুগলের প্রোডাক্ট ব্লগার ব্যবহার করে ব্লগ সাইট খোলার ক্ষেত্রে আপনি খুব সহজেই ১০ মিনিটের মধ্যে একটি ব্লগসাইট খুলতে পারবেন। আর এটি সম্পুর্ন ফ্রী। 

তবে আপনি যদি ব্লগস্পট বা ব্লগার ব্যবহার করে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করেন, সে ক্ষেত্রে আপনার জন্য আমার সাজেশন থাকবে কষ্ট করে হলেও একটি টপ লেভেল ডোমেইন কিনে ব্লগার ওয়েবসাইটে এড করে তারপর লেখালেখি শুরু করুন। টপ লেভেল ডোমেইন এর উদাহরণ- .com, .org, .xyz, .net ইত্যাদি।

ব্লগিং করার জন্য আপনি আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ উভয় মাধ্যমেই কাজ করতে পারবেন। তাই আপনাদের মধ্যে যারা মোবাইলে অনলাইন ইনকামের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য ব্লগিং হতে পারে একটি সেরা সুযোগ।

তবে এসব কিছুর পাশাপাশি যদি আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং সম্বন্ধে অনেকটা ধারণা থাকে তাহলে খুব সহজেই আপনি আপনার ব্লগে ওয়েবসাইটটিতে প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক বা ভিজিটর আনতে পারবেন। আমার ব্লগিং-এ যার ওয়েবসাইটে যত বেশি ট্রাফিক বা ভিসিটর থাকবে তাহলে তত বেশি ইনকাম হবে।


আমি জানি আপনাদের মধ্যে অনেকেই ব্লগিং করতে আগ্রহী। আপনাদের কথা চিন্তা করেই আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আর্টিকেল এর পাশাপাশি ভিডিও সহকারে ব্লগিং সম্পর্কে এটুজেড গাইডলাইন কোর্স আপলোড করেছি। আপনার চাইলে সেই ভিডিও গুলো দেখার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ফ্রিতে ব্লগিং কোর্সটি করে নিতে পারেন। আপনাদের সুবিধার্থে নিচে লিংক দিয়ে দিয়েছি। লিংকে ক্লিক করে ব্লগিং সম্পর্কে গাইডলাইন পেয়ে যাবেন। 

ব্লগিং লিংক👉: ব্লগিং ফ্রী কোর্স

2. ফ্রিলান্সিং (Freelancing) করে আয়

ডিজিটাল এই যুগে অনলাইনে যে পদ্ধতি অবলম্বন করে মানুষ সবথেকে বেশি টাকা উপার্জন করছেন সেটি হলো- ফ্রিলান্সিং। বাংলদেশের বেকারত্বের হার অনেক বেশি। আর বেকারত্বের মতো অভিশপ্ত জীবন থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ফ্রীলান্সিং খাতটি অনেক বড় ভুমিকা পালন করছে। একই সাথে অনেক দক্ষতা সম্পন্ন মানুষ এই খাতটিতে কাজ করে আমাদের দেশকে বিশ্বের কাছে রিপ্রেসেন্ট করছে। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে অনন্য দেশ হিসেবে তুলে ধরছে।

আসলে একসময় পৃথিবীর অনেক বড় বড় দেশের মানুষেরা জানতোই না যে, পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক ছোট্ট একটি দেশ রয়েছে। আর ঐ সকল মানুষদের নিকট বাংলাদেশকে বেশ পরিচিত করছে আমাদের দেশের তরুণ ফ্রিল্যান্সারগণ।

শুধু তাই নয় সাথে সাথে প্রতি মাসে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স তারা এনে দিচ্ছে ফ্রিল্যান্সাররা। তাই এই ফ্রিলান্সিং-এ অংশগ্রহণ করে আপনি শুধুমাত্র যে টাকা আয় করবেন ব্যাপারটি এমন নয়, বরং ফ্রিল্যান্সিং করার সাথে সাথে বাংলাদেশের রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে গৌরবেরও অংশীদার হতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

আসলে ফ্রীলান্সিং জিনিসটি কি? আরেকটি কথা হল কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন? আপনি যে কাজের ওপরে দক্ষতা অর্জন করেছেন, সেই কাজটি অন্যকে সুনিদৃষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অনলাইনের মাধ্যমে করে দেওয়াকেই ফ্রীলান্সিং বলা হয়।

এখানে আপনার কাজ করার এবং আপনার যে ইমপ্লয়ার (Employer) তার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নাই। কাজগুলো খুব সহজেই ঘরে ঘরে বসে থেকেই সম্পন্ন করতে পারবেন আবার অন্যদিকে আপনার ক্লায়েন্টও হবেন নানান দেশের। আর এসব সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হতে থাকবে।

যাহোক, সবার আগে এখানে যে বিষয়টি অতি প্রয়োজন সেটি হল- নির্দিষ্ট যেকোন একটি বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করা। আর এই দক্ষতাটি হতে পারে হতে পারে ওয়েব ডিজাইনিং (Web Design), ওয়েব সাইট মেকিং (Website Making), গ্রাফিক্স ডিজাইনিং (Graphics Design), হতে পারে ফটো এডিটিং (Photo Editing), কন্টেন্ট রাইটিং (Content Writing), কপি রাইটিং (Copywriting), লোগো ডিজাইন (Logo Design), ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing), সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) ইত্যাদি।


এরকম কোনো একটি বিষয়ের উপরে নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। তবে আপনি যদি একের অধিক কাজ জানেন সে ক্ষেত্রে টাকা ইনকাম করার অপরচুনিটি বা সুযোগ আর একটু সহজ হয়ে যায়।

যেকোনো একটি বিষয়ের উপরে প্রপারলি কাজ শেখার পরে আপনাকে বিভিন্ন ফ্রিলান্সিং সাইটগুলোতে (যেমন- Freelancer, Upwork, Fiver, ইত্যাদি)  আপনার ইনফরমেশন বা তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এর পরে আপনি যে কাজের উপরে দক্ষ সেই কাজ অনুযায়ী প্রোফাইল সাজাতে হবে।

তবে আপনাকে অবশ্যই একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বিষয়টি হলো বর্তমান সময়ে অনলাইন ইনকাম করার জন্য অসংখ্য সাইট রয়েছে। কিন্তু সঠিক ও ভালো মানের সাইট খুব কম পরিমাণে রয়েছে।

তাই আপনি যখন কোন একটি ওয়েবসাইটে কাজ শুরু করবেন বলে ভাবছেন তার আগে অবশ্যই ভালো ভাবে সাইটটি সম্পর্কে ভালো-মন্দ জেনে নিবেন। যদি সবকিছু দেখে এবং রিচার্জ করার পর মনে হয় যে সাইটটি ভালো, তাহলেই কেবল আপনি ওই সাইটটিতে কাজ করা শুরু করবেন।

তারপর, আপনি যে কাজে দক্ষ বা যে কাজটি ভালো পারেন তার প্রমান হিসেবে আপনার অংকের সম্পাদন করা কোনো কাজ থাকলে সেটা পোর্টফোলিও আকারে ওই ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে সাজিয়ে রাখতে হবে। এতে করে হবে কি- আপনার ক্লায়েন্ট যখন আপনার প্রোফাইল চেক করবে তখন পোর্টফলিও দেখে যদি সে পছন্দ করে তাহলে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ থাকবে, ভালো মানের একটি পোর্টফোলিও তৈরি করার চেষ্টা করুন। কারন এতে করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নতুন একজন সেলার হিসাবে ওই পোর্টফোলিও গুলোই আপনাকে কাজ পেতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।

নতুন অবস্থায় আপনাকে কাজ পেতে অনেকটা অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। এক্ষেত্রে টিপস হলো যদি আপনার পরিচিত কেউ ফ্রিল্যান্সার থাকে, তবে তার থেকে রেফারেন্স নিয়ে আপনি আপনার পোর্টফোলিওতে যুক্ত করে দিতে পারেন।

রেফারেন্স ব্যবহার করার মাধ্যমে যখন আপনি প্রথমবার একটি কাজ পেয়ে যাবেন, কাজ শেষে ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ সম্বন্ধে রিভিউ দিবে। যখন একজন ক্লায়েন্ট আপনাকে ভালো একটি রিভিউ দিবে, তারপর থেকে দেখবেন আপনার কাজ আসতে শুরু করেছে। আর একসময় আসতেই থাকবে। 

এছাড়াও আপনি চাইলে প্রথমে গিয়ে বিভিন্ন কাজের উপরে কন্টেস্টে অংশ নিতে পারেন। এইসকল কনটেস্ট থেকেও ক্লায়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের মতে নতুন অবস্থায় ফ্রিলান্সিং শুরু করার পর প্রথম কাজটা পাওয়াই একটু কঠিন। তবে এক্ষেত্রে  চেষ্টা করবেন  যে কাজের মধ্যে কম্পিটিশন বা প্রতিযোগিতা কম রয়েছে কিন্তু চাহিদা বেশি রয়েছে, সেই বিষয়ের উপরে কাজ করার জন্য। এতে করে আপনি কম সময়ের মধ্যে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবেন। 

3. ইউটিউবিং করে আয়

আপনি কি জানেন, আমাদের দেশে বড় বড় অনেক ইউটিউবার রয়েছেন। আর এই ইউটিউবারদের মধ্যে কারো কারো প্রতিমাসে ইনকাম ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আপনিও যদি চান তাহলে একটু কষ্ট করে ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে এডিট করার পরে তা ইউটিউবে আপলোড করে ইনকাম করা শুরু করতে পারেন।

ভিডিও বানানোর জন্য আপনার ঐরকম ডিএসএলআর বা দামি ক্যামেরা প্রয়োজন হবে ব্যাপারটি ঠিক ঐ রকম নয়। যারা সফল ইউটিউবার হয়েছেন তাদের পূর্ব ইতিহাস জানলে দেখতে পাবেন যে, বেশিরভাগ বড় বড় ইউটিউবার সর্বপ্রথম তাদের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি দিয়ে ইউটিউবিং শুরু করেছেন। এরপরই তারা আস্তে আস্তে সফল হওয়ার পর এখন অনেক দামি দামি গেজেট ব্যবহার করে।

আপনার ভিডিও কনটেন্ট গুলো যদি ভালো হয়ে থাকে, আবার যে কনটেন্টগুলো মানুষের প্রয়োজনীয় এবং মানুষ প্রায়ই খুঁজে থাকে এরকম কনটেন্টগুলো নিয়ে কাজ করলে খুব তাড়াতাড়ি এবং সহজেই আপনি ভিউয়ার ও সাবস্ক্রাইবার পেয়ে যাবেন।

তবে এক্ষেত্রে আপনাদের জন্য ছোট একটি বোনাস টিপস রয়েছে। আর সেটা হলো যদি আপনারা সত্যিই ইউটিউবে প্রফেশনালভাবে কাজ শুরু করতে করতে চান, সেক্ষেত্রে ভিডিও এডিটিং এবং অডিও এডিটিং সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেবেন।

তারপরে আপনার ইউটিউব চ্যানেলটিতে গত এক বছরে সর্বনিম্ন যদি 1 হাজার সাবস্ক্রাইবার হয়ে যায় এবং ন্যূনতম 4000 ঘন্টা ভিউ টাইম হয়ে গেলে আপনি মানিটাইজেশন এর জন্য গুগলের কাছে আবেদন করতে পারবেন। অতঃপর আপনার প্রতিটি ভিডিওতে মানিটাইজেশন একটিভেট করে নিলে অডিয়েন্সদের ভিউজ থেকে আপনার ইনকাম শুরু হয়ে যাবে।

এছাড়া আপনি শুধুমাত্র ইউটিউব এবং গুগল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়াও আপনি বিভিন্ন জায়গা থেকে স্পন্সরশীপের মাধ্যমে অনেক বেশি পরিমাণ টাকা আয়  করতে পারবেন। দেখা গেলো কোনো একটা কোম্পানি কোনো একটা পন্যের মার্কেটিং এর জন্য আপনার ভিডিওতে তার ওই পন্য বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য বললো। আপনি এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দিতে সম্মতি প্রকাশ করলে আপনাকে আপনার চাহিদা অনুযায়ী সে পেমেন্ট করবে।


4. ওয়েবসাইট (Website) বানিয়ে আয়

ইতিমধ্যেই আপনি হয়তো জানেন যে, ভালো একটি ওয়েবসাইট এর মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। চাইলে আপনিও একটি ওয়েবসাইট সহজে তৈরি করতে পারবেন এবং সেটি সচল করে অনেক উচ্চমূল্যে বিক্রি করে দিতে পারবেন। ডিজিটাল এই যুগে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা বর্তমানে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার মতোই সহজ হয়ে গেছে। যে কেউ চাইলেই সহজে একটি মন মতো ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

কিন্তু এখানে একটি বিষয় হচ্ছে- যে ওয়েবসাইট গুলো খুব সহজে তৈরি করা যায়, সেগুলোর তেমন একটা চাহিদা থাকে না। তবে ওয়েবসাইট বানানোর পর আপনার সাইটে যদি প্রতিদিন ভালো পরিমাণ ট্রাফিক আসে, সেক্ষেত্রে অনেক ভালো দাম পেতে পারেন। যেই ওয়েবসাইটগুলো উচ্চ মূল্যে বিক্রয় করা হয় সেগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ওয়েবসাইট দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার দ্বারা তৈরি করা হয়।

সুতরাং বলা যায় যে, আপনি যদি একজন দক্ষতা সম্পন্ন ওয়েব ডিজাইনার হয়ে থাকেন, অথবা ভালোভাবে ওয়েব ডিজাইনিং শিখে নিতে পারেন সেক্ষেত্রে আপনি নিজে নিজেই ভালো একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিবেন। তারপর আপনার বানানো ওয়েবসাইটটিতে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট আপলোড করার মাধ্যমে সাইটটি সচল করে সেটিতে মোটামুটি একটি পরিমান ভিজিটর এনে চাইলে বিক্রি করে দিতে পারবেন।

আপনি চাইলে ইউটিউব এবং গুগোল রিসার্চ করার মাধ্যমে ভিডিও দেখে বা ভালো কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ওয়েব ডিজাইন এর উপরে কোর্স করেও ওয়েব ডিজাইনিং শিখে নিতে পারেন ।

আবার অনেক ক্ষেত্রে আপনি চাইলে আপনার তৈরি করা নতুন সাইটও বিক্রি করতে পারেন যদি আপনার হাতে ক্লায়েন্ট থাকে। আর আপনি যদি এই কাছে একবার ভালোভাবে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন, তবে আপনার জন্য নানান জায়গা থেকে কাজের সুযোগ আসবে আবার চাকরি জীবনেও এই অভিজ্ঞতা আপনাকে অনেক বেশি সহায়তা করবে।

তাছাড়াও আপনি চাইলে নিজে ওয়েবসাইট তৈরি করার পর সেই ওয়েবসাইটটিতে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করতে পারেন। এতে করে আপনার কনটেন্ট রাইটিং এর উপর অনেকাংশে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। 

5. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) করে আয়

বর্তমান বিশ্বে অনলাইনে ইনকাম করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম গুলোর মধ্যে একটি হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)। আমাদের দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশেও দিন দিন আস্তে আস্তে করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এটি অনলাইনে আয় করার জন্য অনেক সহজ এবং বিশ্বস্ততম একটি মাধ্যম। কিন্তু আমাদের দেশের সাধারন মানুষের মধ্যে বেশির ভাগেরই এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। যার ফলে এই কাজে মানুষ তেমন আগ্রহ প্রকাশ করছেনা বা অংশগ্রহণে অনেক বেশি পিছিয়ে রয়েছে। আসুন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর বিষয়টা খুব সহজে বুঝে নেই।

পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হাজারো বড় বড় ই-কমার্স (E-Commerce) সাইট। এদের মধ্যে থেকে অনেকগুলো আবার সারা বিশ্বেই তাদের নিত্যনতুন পণ্যসমূহ ডেলিভারি দিয়ে থাকে। এসকল বড় বড় ই-কমার্স (E-Commerce) ওয়েবসাইটগুলোর প্রায় প্রতিটাতেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) নামক একটি সেকশন বা অপশন রয়েছে।

আপনিও চাইলেই সেই ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে সাইন আপ করে খুব সহজেই তাদের মেম্বার হয়ে যেতে পারেন। এরপর আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব এবং শুভাকাঙ্খীদের নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করতে পারেন। এরকম গ্রুপ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেক মানুষেরই আছে।

এখন আপনি যেই ওয়েবসাইটটিতে অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট তৈরি করেছিলেন সেই ই-কমার্স (E-Commerce) সাইট থেকে বিভিন্ন পন্যের বিবরন সহ ওই লিঙ্ক কপি করে আপনি বিভিন্ন গ্রুপে পাঠাবেন। এখন আপনি যে পণ্যের উপরে বিবরণ সহকারে পণ্য কেনার লিঙ্ক দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন সেই লিঙ্কে ক্লিক করে যদি কেউ পণ্যটি ক্রয় করে তাহলে আপনি সেটার থেকে নির্দিষ্ট পরিমানের একটি কমিশন পাবেন।

আপনার কমিশনের জন্য এক্ষেত্রে কিন্তু পন্যটির দাম একটুও বৃদ্ধি পাবে না, অর্থাৎ পণ্যের মূল্য যা নির্ধারণ করা ছিল সেটিই থাকবে। পন্যটির আসল যে দাম আপনার পাঠানো লিঙ্ক থেকে মানুষেই মূল্যেই কিনতে পারবে। সহজে সেল পাওয়ার জন্য আপনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন: ফেসবুক, টুইটার,  লিঙ্কড ইন,  পিন্টারেস্ট, ইনস্টাগ্রম, রেডিট ইত্যাদি অনেক বেশি সহায়তা করবে।

তবে এ ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং সর্ম্পকেও পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে। এতে করে আপনার টাকা আয় এর পরিমাণ অনেক গুন বেড়ে যাবে এবং সহজেই ইনকাম করতে পারবেন।

এভাবে অনেক বেশি পরিমাণ টাকা ইনকাম করা সম্ভব হয়, যদি আপনি ওই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট গুলোতে নিয়মিত একটিভ থেকে কমিউনিটি বিল্ড আপ করতে পারেন তাহলে তো কোন কথাই নেই। এছাড়া আপনি যদি চান তাহলে এখান থেকে ইমেইল মার্কেটিং করার মাধ্যমেও অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

তবে ইমেইল মার্কেটিং করার জন্য প্রয়োজন হল অনেক গুলো একটিভ ইমেইল। আপনি যদি 800 থেকে 1000 অ্যাক্টিভ ইমেইল সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে  খুব সহজে এখানে থেকে মোটামুটি ভালো অঙ্কের একটি টাকা ইনকাম করে ফেলতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য এখন বহু ওয়েবসাইট রয়েছে। তবে এই সকল ওয়েবসাইট গুলোর মধ্যে সকলকে পিছনে ফেলে বর্তমানে অ্যামাজন এফিলিয়েশন প্রোগ্রাম (Amazon Affiliation Program) বিশ্বের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

6. ড্রপশিপিং (Dropshipping) এর মাধ্যমে আয়

অনলাইন ব্যবসার মধ্যে অন্তর্গত অন্যতম একটি জনপ্রিয় কাজ হচ্ছে ড্রপশিপিং (Dropshipping)। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ঘর বসে থেকে অনলাইন ইনকাম করা সম্ভব। তাহলে চলুন প্রথমেই জেনে নেয়া যাক আসলে এই ড্রপশিপিং (Dropshipping) কি। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দিয়ে বুজালে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

মনে করেন, আপনার এলাকায় বা আশেপাশের পরিচিত একজন দোকানদার বা ব্যবসায়ী কোন একটি প্রোডাক্ট বা পন্য তৈরি করে সেটিকে বাজারে 1000 টাকায় বিক্রি করে। আপনি একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখলেন যে, ঠিক একই প্রোডাক্ট বা পণ্য  শহরে বড় বড় মার্কেটে অথবা কোনো অনলাইন ই-কমার্স সাইটে 2500 টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এরকম বিষয়গুলো কিন্তু আমাদের দেশে সচরাচর সবসময় ঘটেই চলেছে। আপনি একটু ভেবে দেখুন- কোনো এক প্রকার সবজি যেটা কৃষকদের থেকে ৫ টাকা কেজি মূলে ক্রয় করে বড় বড় মার্কেটগুলোতে ওইগুলো ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

তো এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কিভাবে ড্রপশিপিং করে অনলাইনে টাকা উপার্জন করবেন? উত্তর হল- এক্ষেত্রে আপনি নিজেই আপনার পছন্দমত কোন একটি বড় ই-কমার্স (E-Commerce) ওয়েবসাইটে একাউন্ট প্রফাইল খোলার মাধ্যমে ওই পন্যটি বিক্রি করতে পারেন। আপনি আপনার এলাকার পণ্য উৎপাদনকারী কাছ থেকে প্রোডাক্টটি 1000 টাকায় কিনে সেটি আপনার প্রোফাইলে 1500 থেকে 2000 টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

এতে করে একেকটি পণ্য বিক্রির মাধ্যমে 500 থেকে 1000 টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারছেন।  তবে এক্ষেত্রে আপনি যদি একটু কম লাভ করে আপনার প্রোডাক্ট গ্রাহকদের বিক্রি করেন, তাহলে সাধারন বিক্রির তুলনায় অনেক গুণ বেশি বিক্রি করতে পারবেন। আর এই সকল বিষয় হচ্ছে মুলত ড্রপশিপিং (Dropshipping)। আপনার এলাকায় যদি এরকম কোনো সুযোগ থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার উচিৎ এই সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগানো।

বোনাস টিপস

একদম সহজে কোন মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট করা ছাড়াই আপনি অনেক বেশি সেল জেনারেট করতে পারেন। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র আপনার একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হবে, যা আমাদের মধ্যে প্রায় সবারই থাকে। বতর্মানে ফেসবুকে “ফেইসবুক মারকেটপ্লেস” নামক একটি অপশন রয়েছে। এই ফেসবুক মার্কেটপ্লেসকে কাজে লাগিয়ে অর্থাৎ ফেসবুকে মার্কেটপ্লেসে প্রডাক্ট আপলোড করে আপনি খুব সহজেই অনেক বেশি সেল জেনারেট করতে পারেন যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

আমি এই ফেসবুক মার্কেটপ্লেসটির কথা আপনাদেরকে জানালাম কারণ হল- আমি নিজে এটির মাধ্যমে সব অনেক বেশি সেল জেনারেট করতে পেরেছি। আর এটি একদম সহজেই, যা অন্য কোন জায়গায় এত সহজে সম্ভব নয়। যদিও এখন ফেইসবুক মারকেটপ্লেস বাঙ্গালীদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় নয়। তবে এটি খুব শীঘ্রই অনেক জনপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস হয়ে উঠবে। তাই দেরি না করে এই সুযোগটাকে আমাদের সবার কাজে লাগানো উচিত।

7. অনলাইন রিসেলিং (Online Reselling) করে আয়

অনলাইনে পন্য বিক্রি দিন যত যাচ্ছে ততই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যদিও এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশী পিছিয়ে রয়েছে। তারপরেও আমাদের দেশে বেশ বড় বড় কয়েকটি অনলাইন ব্যবসা বা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আপনি যদি চান তাহলে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

কিন্তু এক্ষেত্রে একটু সমস্যা হল এটি শুরু করতে হলে আপনাকে অনেকটা বড় পরিসর নিয়ে শুরু করতে হবে। আর এই কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার পুরো সময়টাই ব্যয় করতে হবে এবং তার সাথে সাথে আরও বিভিন্ন দিকে খেয়াল রাখতে হবে, যেটা ছাত্রজীবনের পাশাপাশি করা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।

তাই প্রথম অবস্থায় এসকল বিষয়ে না জড়িয়ে আপনি অনলাইন রিসেলিং (Online Reselling) করে বেশ ভালো পরিমাণ টাকা অনলাইনে ইনকাম করতে পারেন। মুলত অনলাইনে পন্য বিক্রির কাজই হচ্ছে অনলাইন রিসেলিং। কিন্তু এক্ষেত্রে অনেক বেশি সুবিধা রয়েছে। রেসলিং করতে গেলে আপনাকে খুব বেশি কিছু করতে হবেনা।

এখানে শুধুমাত্র আপনি ফেসবুক একাউন্ট এর মত করে একটি রিসেলিং কোম্পানি (Reselling Company) তে আপনার একাউন্ট ক্রিয়েট করবেন। আর সেখান থেকে পণ্যের ছবি এবং বিবরণ সংগ্রহ করে নিয়ে আপনি নিজে একটা পেজ খুলে বিক্রি করবেন।

প্রত্যেকটি রেসলিং কোম্পানির কাছ থেকে অল্প দামে অনেক ভালো পণ্য পাওয়া যায়। আর প্রোডাক্ট বা পণ্যগুলো তার থেকে অনেকটা বেশি দাম দিয়ে বিক্রি করে আপনি আপনার নিজের লাভ বের করবেন। আমাদের দেশে বেশ কিছু রিসেলিং কোম্পানি (Reselling Company) রয়েছে। যার মধ্যে শপআপ (ShopUp) হল অন্যতম।

রেসলিং এর মজার একটি ব্যাপার হলো এখানে পন্য বিক্রয় করার জন্য আপনার নিজের কোনো পন্য লাগবে না। পন্য সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে বাকি যেসব কাজ রয়েছে সব কাজই ওই রিসেলার কোম্পানি করে দিবে। এ নিয়ে আপনাকে মাথা ঘামাতে হবে না। 

8. ছবি বিক্রি (Sell Photos Online) করে আয়

ডিজিটাল এই যুগে বর্তমান জেনারেশনের ছেলেমেয়েদের কাছে স্মার্টফোন নেই এমন সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। আবার অনেকের কাছেতো হাই কোয়ালিটি ক্যামেরার ফোন সহ ডিএসএলআরও রয়েছে। আপনি যদি চান তাহলে আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা ব্যবহার করার মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইনে ইনকাম করতে পারেন।

এক্ষেত্রে আপনাকে শুধুমাত্র বিভিন্ন আকর্ষণীয় জিনিসের ইউনিক বা নতুন ছবি তুলতে হবে। এই কাজটি আপনি আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটির সাহায্যও করতে পারেন আবার চাইলে ক্যামেরার মাধ্যমেও করতে পারেন।

তারপর আপনি চাইলে একটু সিম্পল ভাবে ছবিটিকে একটু এডিট করে অথবা “র” (Raw) ফাইলই বিভিন্ন স্টক ফটো ওয়েবসাইটে আপলোড করার মাধ্যমে সেখান থেকে প্রতিটি ছবির বিনিময় 50 ডলার থেকে শুরু করে 500 ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। কি অবাক লাগছে? অবাক লাগার মতো হলেও এটি সত্য যে, আপনি চাইলে এখন ঘরে বসেই ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারবেন। 

আপনি যদি বেসিক বা অল্প স্বল্প ফটো এডিটিং সম্পর্কে জানেন, তাহলে এক্ষেত্রে আপনি এই কাজে অনেক ধাপ এগিয়ে থাকবেন। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে Photoshop, Illustrator ইত্যাদি আর মোবাইলের ক্ষেত্রে স্ন্যাপসিড, পিক্সেলাব ইত্যাদি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করার মাধ্যমে ছবির আকর্ষণীয়তা বৃদ্ধি করে সাধারণ ছবিকে একটি প্রাণবন্ত ছবিতে রূপান্তর করা যায়।

এখন আপনার মনে হয়ত একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যে, কি ধরনের ছবি ওয়েবসাইটগুলোতে আপলোড করব? উত্তর হলো আপনি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ছবি আপলোড করতে পারবেন যার মধ্যে অন্যতম হলো- এবস্ট্রাক্ট, আর্ট - চিত্রাঙ্কন, ফ্যাশন, নেচার বা প্রকৃতি, ট্রাভেল বা ভ্রমন, ফুড (খাবার), ব্যবসা, কালচার ও লাইফস্টাইল ইত্যাদি সহ আরো নানান ধরনের ছবি।

ধরে নিলাম আপনারা যেকোনো একটি ক্যাটাগরির উপরে ছবি তুলে সংগ্রহ করেছেন। এখন ছবিগুলো কোথায় আপলোড করবেন? অনলাইনে ছবি বিক্রি করার জন্য অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে। তবে তার মধ্যে অন্যতম কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো:

  • Shutterstock.Com 
  • Fotolia.Com 
  • GettyImages.Com 
  • iStockPhoto.Com 
  • Dreamstime.Com 
  • Alamy.com ইত্যাদি 
এই ওয়েবসাইট গুলোর ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করার জন্য বেশ জনপ্রিয় এবং এরা গ্রাহকদেরকে এক একটি ছবির ক্ষেত্রে বেশি অর্থ প্রদান করে থাকে। তবে ওয়েবসাইটগুলোতে ছবি আপলোড করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। তারপর প্রাথমিক অবস্থায় দুই থেকে তিনটি ছবি আপলোড করে অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ করে নিতে হবে। একাউন্ট এপ্রুভ করার পর আপনি আপনার পছন্দমত ছবি আপলোড করতে পারবেন। সেই ছবিগুলো যতজন মানুষ কিনবে তার থেকে আপনার একাউন্টে কমিশন জমা হতে থাকবে। 

বাংলাদেশের খুব কম পরিমাণ মানুষই এই কাজের সাথে জড়িত। তবে আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো ভারতের সন্দিপ মহেশ্বরীর কথা শুনে থাকবেন। ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় প্রতিটা প্রযুক্তি বিষয়ক সেমিনার বা টক সো-তে তিনিই প্রধান অতিথি থাকেন। তিনিই হচ্ছেন অন্যতম একটি উদাহরন যিনি ফটোগ্রাফিকে নিজের পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন ।

এই সেক্টরটিতে তিনি অনেক সফল একজন মানুষ। বর্তমানে তিনি নিজের একটি ছবির ওয়েবসাইট তৈরি করে রেখেছেন। যে ওয়েবসাইটের মধ্যে বর্তমানে দেশ বিদেশের 1000 জনেরও বেশি ফটোগ্রাফার কাজ করে থাকেন।

উপরের ছবি বিক্রি করার জন্য যে সকল ওয়েবসাইট আপনার সামনে তুলে ধরেছি এইসব ওয়েবসাইটগুলোতে আপনি যে ছবি আপলোড করবেন সেই ছবিটি আবার বিভিন্ন মানুষ তার প্রয়োজনে কিনে নেবে। আর এই সকল ছবি গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিভিন্ন ব্যানারে, বইয়ের কাভারে, ফেস্টুনে এইসব ছবি বিক্রি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষ তাদের বিজনেস শুরু করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ছবি প্রয়োজনের তাগিদে ক্রয় করে থাকেন।

9. অনলাইন সার্ভে (Online Survey) করে আয়

কোন একটি কোম্পানি কি ধরনের পণ্য তৈরি করবে এবং ওই পণ্যে কি কি ধরনের ফিচার থাকা প্রয়োজন, কি কি ধরনের সুবিধা থাকলে গ্রাহকদের কাছে প্রোডাক্টটি ভাল লাগবে! এই সকল বিষয়গুলো জানার জন্য উক্ত কোম্পানীর প্রতিনিধিরা মানুষের কাছে এসে প্রশ্ন করার মাধ্যমে উত্তর গুলো জানতে চাই। আর এই পুরো প্রসেসটাকেই সার্ভে বলা হয়। আর এই সম্পূর্ণ প্রসেসটি যখন অনলাইনের মাধ্যমে করা হয় তখন তাকে বলা হয় অনলাইন সার্ভে।  

বিশ্বের অনেক দেশেই সরকারিভাবে বিভিন্ন ধরনের সার্ভে হয়ে থাকে। সরকারি সার্ভেতে দেশের সার্বিক অবস্থায় দেশের মানুষ অর্থাৎ জনগন কতটা সন্তুষ্ট রয়েছেন সেটা জানার জন্য সরকার এই সরকারি সার্ভে গুলো করে থাকে। তবে যত সব বড় বড় কোম্পানি রয়েছে সেই কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই অনলাইন সার্ভের ব্যবস্থা করে থাকে।

এই সকল সার্ভে মূলত পেইড ভিত্তিক হয়ে থাকে। আপনি চাইলে এই সকল সার্ভে করার মাধ্যমে  প্রতি মাসে মোটামুটি একটি অঙ্কের টাকা অনলাইনে ইনকাম করে ফেলতে পারেন।  যেসকল বড় বড় কোম্পানি রয়েছে সে সকল কোম্পানির মধ্যে অনেক কোম্পানিই একেকটি সার্ভের জন্য 100 ডলার পর্যন্ত খরচ করে থাকে। আর এইসব সার্ভেগুলো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে ওয়েবসাইট। অর্থাৎ ছাড়বে কোন পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে।  

তাই কাজ করার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম ওই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মধ্যে একাউন্ট খুলতে হবে। তারপর আপনার বিষয়ে যেসকল ইনফর্মেশন বা তথ্যগুলো চাইবে সেগুলো দিয়ে অ্যাকাউন্ট আপডেট করে নিলেই আপনি সার্ভে কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত। তবে এক্ষেত্রে আপনি প্রতিটি সার্ভেতেই কুয়ালিফাই হতে পারবেন না। এখানে যে সার্ভেগুলো আপনার একাউন্টে দেওয়া তথ্যের সাথে অনেকাংশে মিল থাকবে শুধুমাত্র সে সার্ভেগুলো আপনি করতে পারবেন এবং তা থেকে সহজেই অনলাইন ইনকাম করতে পারবেন।

সার্ভে করে আয় করার জন্য যে সকল ওয়েবসাইট রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি ওয়েবসাইট আপনাদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো:

  • Amazon Survey
  • Survey Junkie 
  • SwagBucks 
  • Global Test Market 
  • PrizeRebel 
  • Your Surveys 
  • ySense 
  • View point Panel ইত্যাদি
তবে আমরা যারা বাংলাদেশি রয়েছে তাদের জন্য একটি দুঃসংবাদ হচ্ছে- বাংলাদেশি সার্ভে সাইট অনেক কম রয়েছে। আর থাকলেও সেটি থেকে আই এর পরিমাণ একদমই কম। 

আর উপরে যে সকল ওয়েবসাইটের কথা শেয়ার করেছি সেগুলোতে বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশী আইপি দিয়ে সার্ভে কাজ করে আয় করতে পারবেন না। আয় করার জন্য আপনাকে নানান দেশের আইপি কিনে তারপর সার্ভে কাজ শুরু করতে হবে। যা একদম অবৈধ একটি কাজ। কারণ এক্ষেত্রে উক্ত দেশের নাগরিক না হয়েও এবং প্রোডাক্টটি সম্পর্কে না জেনে সার্ভে গুলো নিজের ইচ্ছামত পূরণ করতে হয়। বাংলাদেশের অনেক মানুষই এভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম করে থাকেন। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো অন্যান্য দেশের আইপি কিনার মাধ্যমে সার্ভে করে আয় করা কে প্রাধান্য দেব না।

তবে আপনি যদি একজন বাংলাদেশী নাগরিক হয়ে থাকেন এবং প্রবাসী হিসেবে ইউএসএ, ইউকে অথবা অন্যান্য দেশে থাকেন তাহলে ওই সাইটগুলোতে সার্ভে করে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন। এটি বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য পার্ট টাইম হিসেবে অনেক ভালো সাপোর্ট দিবে। যা থেকে ভালো পরিমাণ টাকা অনলাইনে আয় করা সম্ভব হবে। আর এই জন্যই মূলত সার্ভে করে আয় সম্পর্কে এত কিছু বললাম। 

10. অনলাইনে পড়িয়ে (Online Teacher) আয়

আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ দেখা যায় যারা বাসা বাড়িতে গিয়ে অথবা কোনো একটি কোচিং সেন্টার খুলে সেখানে শিক্ষার্থীদেরকে পড়াচ্ছেন। অনেকেই এই পদ্ধতিতে পড়িয়ে প্রতিমাসে অনেকটা ভালো পরিমাণ টাকাই আয় করে থাকেন। কিন্তু এখানে একটি সমস্যা রয়েছে। আর সমস্যাটি হল যে, এভাবে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় এবং অর্থ যাতায়াতেই চলে যায় তার সাথে কষ্ট তো আছেই।

আবার অন্যদিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, এভাবে করে কোচিং সেন্টারের জায়গা এবং পড়ানোর মতো শিক্ষার্থী জোগাড় করাও অনেকটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বজুড়ে যে বিষয়টি অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সেটি হলো অনলাইন টিচার (Online Teacher) কনসেপ্ট।

আপনি যদি শিক্ষার্থীদের পড়াতে পছন্দ করেন তাহলে চাইলেই ঘরে বসে থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে অনেক ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে নিতে পারেন। আপনি একটি বিষয় জেনে অবাক হবেন যে, বর্তমান পৃথিবীর ৫০ শতাংশ শিক্ষক অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করিয়ে থাকেন। তবে আমরা যদি করোনাকালীন সময় দেখি অর্থাৎ 2019 থেকে 2021 এই সময়টাতে পৃথিবীর প্রায় 90 শতাংশেরও বেশি শিক্ষক অনলাইনে পাঠদান করিয়েছেন।

তাছাড়া বর্তমান যুগের গার্ডিয়ানরাও অনলাইন টিউশনের দিকে ঝুঁকছেন। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি জায়গায় অনলাইন শিক্ষার প্রসার ঘটছে। আর এর পেছনের অন্যতম কারণটি হচ্ছে- “Need and Supply”। অর্থাৎ অধিকাংশ শিক্ষক tech-savvy না হওয়ার কারণে বর্তমানের ডিজিটাল যুগে অনলাইন টিউশন করানো ব্যক্তিদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। 

আমাদের একেবারে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও অনলাইনে পাঠদানের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তাছাড়া বর্তমানে আমাদের দেশেও এরকম বেশ কয়েকটি অনলাইন প্লাটফর্ম রয়েছে, যেখানে একসাথে অনেক শিক্ষার্থীকে অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান করানো হয়। যার মধ্যে একটি নাম বললে হয়তো সবাই চিনবেন। উদাহরণ: টেন মিনিট স্কুল অন্যতম।

আপনি তাদের কাজ থেকেও ধারনা নিতে পারেন। প্রথমে হয়তো আপনার নানা ধরনের বাধা বিপত্তি আসবে, শিক্ষার্থী পেতে একটু কষ্ট হতে পারে, কিন্তু কিছুদিন কষ্ট করলে এখানে থেকে পরবর্তীতে অনেক বেশি পরিমাণ সুবিধা পেতে পারেন।

এছাড়াও টিউশনের মাধ্যমে অনলাইন ইনকাম করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে। যেখানে আপনি চাইলে সহজেই অনলাইন টিউটর হিসেবে যুক্ত হতে পারেন। এখান থেকে আপনি একদম অল্প পরিশ্রমে অনেক বেশি শিক্ষার্থী পেতে পারেন। তবে আপনার লেকচার যদি ভাল হয় সেক্ষেত্রে আপনার শিক্ষার্থীর অভাব হবে না। অনলাইনে শিক্ষার্থীদের টিউশন পড়ানোর জন্য যে সকল ওয়েবসাইট রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো:-

  • Byjus 
  • Unacademy 
  • Vedantu 
  • Toppr 
  • Mytutor 
  • Khan Academy
  • Meritnation ইত্যাদি 

শেষ কথা

অনলাইন ইনকাম (Online Income) হল বর্তমান সময়ের বহুল প্রচলিত একটি বিষয়। যার মাধ্যমে ঘরে বসে টাকা ইনকাম এবং নিজেই নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করার অন্যতম একটি মাধ্যম বা হাতিয়ার। আমাদের দেশ সহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশের লাখ লাখ বেকার যুবক এখন ঘরে বসে না থেকে অনলাইনে আয়ের দিকে ঝুঁকছে। 

আজকের এই টপিকটিতে আমরা অনলাইনে ইনকাম করার উপায় গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সেরা এবং বিশ্বাসযোগ্য কয়েকটি উপায় আপনাদের কাছে তুলে ধরেছি। এগুলোর মধ্যে থেকে আপনি আপনার নিজ যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী যে কোন একটির ওপর এ কাজ করা শুরু করতে পারেন। তবে কোন একটি কাজ শুরু করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই সঠিকভাবে সেই কাজটি সম্পর্কে প্রচুর পরিমাণে রিসার্চ করতে হবে এবং ভালোভাবে  শিখে নিতে হবে। তারপর যদি ভালোভাবে ধৈর্য সহকারে লেগে থাকতে পারেন ইনশাআল্লাহ সফলতা পাবেন। 

বর্তমানে আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সার থেকে শুরু বহু লোকজন অনলাইন ইনকামের সাথে জড়িত রয়েছেন। বাংলাদেশেও প্রতিনিয়ত নানান ধরনের নতুন নতুন অনলাইন ইনকাম সাইট তৈরি হচ্ছে এবং অনেক বাংলাদেশি সাইট রয়েছে যেগুলো আজকাল বেশ ভালো করছে। এই সম্পর্কিত বিস্তারিত জানতে অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট এই আর্টিকেলটি অনেক বেশি সহায়তা করবে। 

আমরা এই আর্টিকেলটিতে অনলাইন আয় করার হাজারো উপায়ের মধ্যে সেরা কয়েকটি উপায় এবং বিভিন্ন অনলাইন ইনকাম টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। এছাড়াও অনলাইনে ইনকাম করার জন্য আরো বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, যেগুলো একটি আর্টিকেলে শেয়ার করে শেষ করা সম্ভব নয়। এখন হচ্ছে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যে, আপনি কোন বিষয়টির উপরে বা কোন পদ্ধতিতে কাজ করতে চাচ্ছেন।

আশা করি এই আর্টিকেলটিতে যে বিষয় গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি সেগুলো থেকে একটু হলেও উপকৃত হয়েছেন। তারপরেও যদি অনলাইনে ইনকাম এর বিষয়ের উপরে আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে আপনি সেটি আমাদেরকে নিচের কমেন্ট বাক্সে জানাতে ভুলবেন না। আর এই টপিকটি যদি আপনার একটু হলেও উপকারে এসে থাকে তাহলে বন্ধু বান্ধবদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। শুভ হোক আপনার অনলাইন যাত্রা, সেই কামনা এবং দোয়া রইলো। ধন্যবাদ।

1 মন্তব্যসমূহ

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

নবীনতর পূর্বতন