গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কে খুঁটিনাটি 

অনলাইনে অথবা অফলাইনে কোন এক জায়গায় হয়তো আমরা গ্রাফিক্স ডিজাইন কথাটি শুনেছি। কিন্তু এই গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? গ্রাফিক্স ডিজাইন কিভাবে শিখব? কিভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে আয় করা যায় এই ব্যাপারগুলি হয়তো আমরা সকলেই জানি না।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি

তাই আজকের এই টপিকে আমরা গ্রাফিক্স ডিজাইন এর খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জানব। আপনি যদি এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান এবং এটি শেখার মাধ্যমে অনলাইনে অথবা অফলাইনে টাকা আয় করতে চান, তাহলে আজকের এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

আরো পড়ুন:

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? 

গ্রাফিক্স” শব্দটি জার্মান শব্দ থেকে এসেছে। আমার মনের ফুলদানিতে রাখো তোমার মন, সাজিয়ে দিব যতন করে মনেরই মতন। কোন একটি জিনিসকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সুন্দর করে সাজানোর যে বহিঃপ্রকাশ ঘটে সেটিই হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজান। মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইন বলতে আমরা যেটি বুঝে থাকি সেটি হল- আপনার অথবা আমার মনের রং তুলি দিয়ে রাঙ্গানো বা মনের মাধুরী মিশিয়ে যে কোন কিছুর বহিঃ প্রকাশ।

অর্থাৎ নিজের ধারণা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা, শিল্প, ইত্যাদি ব্যবহার করে যে কোন দৃশ্য, ছবি, শব্দ মিশ্রণ বা যুক্ত করে কোন কিছুকে নতুন করে সাজানোই হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন। কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবহার করে একজন শিল্পী তার নিজের কল্পনা, তথ্য এবং গ্রাহকদের ধারণা গুলোর সমন্বয় করে দৃশ্যমান ধারণা বা ছবি তৈরি করে।

উপরোক্ত কারণগুলোর কারণেই গ্রাফিক্স ডিজাইন হল এক ধরনের শিল্প। যেমন বাংলাদেশের নকশিকাঁতা, মসলিন শাড়ী সে যুগের গ্রাফিক্স ডিজান। মূলত এভাবে নকশা তৈরি করাকেই গ্রাফিক্স ডিজাইন বলা হয়। নিজের আইডিয়া, কর্ম দক্ষতা এবং ইউনিক বা নতুন কিছু ডিজাইন একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রিয়েটিভিটিকে প্রফেশনে বদলে দেয়ার নাম হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রকারভেদ

এতক্ষণ যে আমরা গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কে জানলাম আসলে গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার? এই ব্যপারগুলো আমাদের অবশ্যই জানা দরকার। প্রধানত গ্রাফিক্স ডিজাইন হচ্ছে দুই প্রকার। যথা:
 
১।স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স 
২।মোশন গ্রাফিক্স

স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স 

স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স আবার চার ধরনের হয়ে থাকে। যেগুলো হল-

১।রাস্টার ইমেজ(পিক্সেল বেসিস) 
২।ভেক্টর ইমেজ(পিক্সেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট) 
৩।টাইপোগ্রাফি (২রকমের হয়ে থাকে)

মোশন গ্রাফিক্স

মোশন গ্রাফিক্স প্রধানত দুই প্রকার হয়ে থাকে। এগুলো হলো- 

১।এনিমেশন গ্রাফিক্স 
২।ভিডিও গ্রাফিক্স

এমন অনেকেই রয়েছেন যারা এনিমেশনকে গ্রাফিক্সের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন না। যার কারণ হিসেবে দেখা যায় যে, এনিমেশন হছে- Create something from nothing। অপরদিকে যদি আমরা গ্রাফিক্সের কথা বলি তাহলে গ্রাফিক্সের জন্যে কিছু না কিছু স্টক লাগেই। তবে এনিমেশন বা ভিডিও গ্রাফিক্সকে বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্সের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। 

দুই ধরনের এনিমেশন হয়ে থাকে। একটি হল 2D, আর অপরটি হল 3D। বর্তমান সময় এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে বলা যায় যে, 3D এনিমেশনের চাহিদা হু হু করে বেড়েই চলছে। কারণ এটি মানুষ দেখতে অনেক পছন্দ করে। ভিডিও গ্রাফিক্স নিয়ে অনেক কিছুই করা যায়। মুলত বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের বিজ্ঞাপনের কাজ করাই ভিডিও গ্রাফিক্সের প্রধান কাজ। এর মধ্যেই রয়েছে ইনফোগ্রাফিক্স আর আর সিনেমাটোগ্রাফি।

কেন গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখবেন?

বর্তমানের এই ডিজিটাল বিশ্বে গ্রাফিক্স ডিজাইন লাগেনা এমন ক্ষেত্র খুব কমই  রয়েছে। যেমন, ধরুন কোন একটা কোম্পানির সফটওয়্যার বানাবে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার। কিন্তু সফটওয়্যার তৈরি করার সময় সফটওয়্যারের ইউজার ইন্টারফেস (UI) বানানোর ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম অবশ্যই একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার এর দরকার পরবে।

তেমনি কোন একটি কোম্পানির ওয়েবসাইট বা কারখানায় কোন পন্য তৈরির ক্ষেত্রে সেই পন্যের বডি কিংবা ডিজাইন ক্রেতার কাছে আকর্ষনীয়ভাবে দেখানোর জন্য সেটি বানানোর আগে গ্রাফিক্স ডিজাইনার দিয়ে পন্যের মোড়ক তৈরি করাসহ ইত্যাদি কাজগুলো একজন দক্ষতা সম্পন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইনার দিয়েই করতে হবে।

এখানে মোটকথা হল আপনি নিজস্বভাবে যে কাজই করেন না কেন, কাজটিকে সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দরভাবে করতে হলে অবশ্যই গ্রাফিক্সের প্রেসজেন্টেশন লাগবে। তাই আপনি যদি একজন দক্ষতা সম্পন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইনার পারেন তাহলে চাকরির বাজারেও আপনি অন্যদের তুলনায় একধাপ এগিয়ে থাকবেন। বর্তমান চাকরীর বাজারে আপনাকে অন্যদের মতো ঘুরতে হবে না। ভালো কাজ জানলে চাকরীই আপনাকে খুজে নিবে।

বর্তমানে আমাদের দেশে নতুন নতুন অনেক কোম্পানী তৈরি হচ্ছে তাদের ডিজাইনার প্রয়োজন হয় ভালো কাজ জানলে দেশীয় কোম্পানি-তে  জব করতে পারবেন। তাছাড়া বাংলাদেশে তেমন দক্ষতা সম্পন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইনার নেই। তাই আপনি যদি একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারেন তাহলে সব সময় আপনার ডিমান্ড অনেক বেশি থাকবে। আপনি যে শুধু গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে চাকরি করে আয় করতে পারবেন ব্যাপারটি এমন নয়। আপনি চাইলে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে টাকা আয় করতে পারবেন। মোটকথা গ্রাফিক্স ডিজাইন ভালোভাবে শিখতে পারলে আপনার জন্য অসংখ্য কাজ অপেক্ষা করছে।


কিভাবে শিখতে পারেন গ্রাফিক্স ডিজাইন?

আমরা হয়তো অনেকেই গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে আগ্রহী কিন্তু মনে একটাই প্রশ্ন যে, গ্রাফিক্স ডিজাইন কিভাবে শিখব? এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা গ্রাফিক্স ডিজাইনের অনলাইন কোর্স খুঁজে থাকি। 

তবে আমি আপনাকে বলব গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য আপনি ইংরেজী নানান ধরনের ওয়েবসাইট থেকে আর্টিকেল পড়ুন এবং ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখুন। এতে করে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন এবং জানতে পারবেন। ঠিক যেরকম কোর্স করে মানুষ জানে। এই রকম দুইটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হচ্ছে- lynda.com এবং tutsplus.com

গুগলে graphics design tutorial লিখে সার্চ করলেই নানান ধরনের ওয়েবসাইটে অনেক ভাল ভাল আর্টিকেল এবং ভিডিও টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন। এ সকল ওয়েবসাইট এর আর্টিকেলগুলো পড়ে এবং এর উপরে রিসার্চ করেই আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন এর খুটিনাটি শিখতে পারবেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বেশিরভাগ সাইটের টিউটোরিয়াল গুলো ফ্রী নয়। তার জন্য আপনার কাছে যদি কোর্স কেনার মত সামর্থ্য থাকে তাহলে আপনি চাইলে কিনে নিতে পারেন। 

তবে আমি বলব- যারা টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড করতে পারেন তারা টরেন্ট এ একটু খুজে দেখুন, ভাল করে খুজলে অবশ্যই ভিডিও গুলো ফ্রীতে পেয়ে যাবেন। টরেন্ট ফাইল কিভাবে ডাউনলোড করতে হয় সেটি আপনারা বিভিন্ন বাংলা ব্লগ এ খুজলেই পেয়ে যাবেন। তবে আমি খুব শীঘ্রই চেস্টা করব আপনাদেরকে টরেন্ট ডাউনলোড করার উপর টিউন করতে। যাই হোক, যদি ইংরেজী টিউটোরিয়াল গুলো সংগ্রহ করতে না পারেন তাহলে নেটে অনেক সাইট রয়েছে যেগুলো আপনাকে অনেক লিখিত টিউটোরিয়াল দিবে। আপনি সেগুলো দেখে শিখতে পারেন। তাছাড়া গুগোল একটু সার্চ করলে গ্রাফিক্স ডিজাইন বই pdf download লিংক ফ্রিতে পেতে পারেন। সেগুলো সব সময় চর্চা করবেন।


তবে এখন সুখবর হচ্ছে- অনেকেই গ্রাফিক্স ডিজাইন বাংলা টিউটোরিয়াল বের করেছেন, যেগুলো দেখে আপনি শিখতে পারেন। তবে গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স এর বাংলা টিউটোরিয়াল গুলো দেখে প্র্যাক্টিস করলে এবং নিজের ওপরে নানান ধরনের রিসার্চ করলে আপনি অনেক বেশি উপকৃত হবেন। যারা ইংরেজি ভাল জানেন তারা অবশ্যই অবশ্যই ইংরেজি টিউটোরিয়াল গুলো দেখবেন, কারন ইংরেজি টিউটোরিয়াল গুলোতে একদম ভেতর থেকে আলোচনা করা হয় যেগুলো অন্য কোথাও এত বিস্তারিত করে আলোচনা করা হয় না। ফটোশপ এর বিভিন্ন টিউটোরিয়াল পাবেন নিচের এই সাইটগুলোতে-

  • https://www.digitalartsonline.co.uk/features/illustration/50-best-photoshop-tutorials/  
  • https://www.photoshoptutorials.ws/  https://www.photoshopessentials.com/  
  • https://www.youtube.com/user/pstutorialsws 

গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য সফটওয়্যার

আপনাদের মধ্যে হয়তো অনেকেই জানেন যে, গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য নানান ধরনের সফটওয়্যার এর প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার কোনগুলো? এর উত্তরে আমি বলব- নির্দিষ্টভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার কোনটি তা বলা সম্ভব নয়। কারণ একেকজন গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে একেক ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন। এ থেকে হয়তো বুঝতে পেরেছেন গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য অনেক সফটওয়্যার রয়েছে। হ্যাঁ অবশ্যই অনেক সফটওয়্যার রয়েছে।

মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা তুমি ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন। এগুলো হলো- 
  • ফ্রি সফটওয়্যার এবং  
  • পেইড সফটওয়্যার
ফ্রি সফটওয়্যারগুলো সম্পূর্ণ ফ্রিতেই অর্থাৎ কোন প্রকার টাকা ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। আবার অন্যদিকে পেইড সফটওয়্যার গুলোর জন্য সাপ্তাহিক, মাসিক অথবা বার্ষিক চার্জ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ পেইড সফটওয়্যারগুলো চালাতে হলে অবশ্যই আপনাকে টাকা দিয়ে কিনতে হবে। ফ্রি সফটওয়্যারগুলো সম্পূর্ণ ফ্রিতেই অর্থাৎ কোন প্রকার টাকা ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। আবার অন্যদিকে পেইড সফটওয়্যার গুলোর জন্য সাপ্তাহিক, মাসিক অথবা বার্ষিক চার্জ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ পেইড সফটওয়্যারগুলো চালাতে হলে অবশ্যই আপনাকে টাকা দিয়ে কিনতে হবে।


গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য ফ্রি সফটওয়্যার 

যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য ফ্রি সফটওয়্যারগুলো খুঁজছেন তাদের জন্য সবচেয়ে সেরা কিছু ফ্রি গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার নিচে দেওয়া হল-  
  1. Inkscape 
  2. Vectr 
  3. Blender 
  4. Gravit Designer 
  5. Krita 
  6. Canva 
  7. SketchUp

গ্রাফিক্স ডিজাইন পেইড সফটওয়্যার

গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য ক্রিকেট সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে অন্যতম কয়েকটি সফটওয়্যার নিচে তুলে ধরা হয়েছে। সফটওয়্যার গুলো হল-  
  • Adobe Photoshop 
  • Adobe Illustrator  
  • Xara Designer Pro X  
  • CorelDraw Graphics Suite  
  • Adobe Stock

গ্রাফিক্স ডিজাইন অনলাইন আয়

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার মাধ্যমে শুধুমাত্র যে অফলাইনে নানান ধরনের চাকরি করতে পারবেন ব্যাপারটি একেবারেই এমন নয়। আপনি চাইলে গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে অনলাইনে টাকা আয় করতে পারেন।

আর অনলাইনে টাকা ইনকামের ব্যাপারটি আপনি পার্ট টাইম অথবা ফুল টাইম হিসেবে নিতে পারেন। এভাবে আয় করার অন্যতম একটি নাম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। অর্থাৎ গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার মাধ্যমে অনলাইন থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে আপনি সহজেই অনলাইনের মাধ্যমেই পার্মানেন্টলি কোন একটি কোম্পানিতে জব পেয়ে যেতে পারেন। 

বাংলাদেশের হাজারো তরুণ-তরুণী রয়েছে যারা ঘরে বসে শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই কাজগুলো আপনি ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই করতে পারবেন। আর এখানে যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে। ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে মাস শেষে মোটা অংকের টাকা আয় করা সম্ভব যা চাকরি করেও কখনো আয় করা সম্ভব নয়।


কি কি কাজ করে অনলাইনে আয় করা যায়?

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার মাধ্যমে অনলাইন বলেন অথবা অফলাইন একই কাজ 2 জায়গায় করে আপনি আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ অফলাইন এবং অনলাইন দুই জায়গার কাজ হচ্ছে একই রকম। গ্রাফিক্স ডিজাইনের যে কাজগুলো করার মাধ্যমে অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমে আয় করতে পারবেন সেগুলো হলো:- 

১. লোগো ডিজাইন  
২. প্রোডাক্ট হলোগ্রাম ডিজাইন  
৩. ইমেজ রিসাইজ এন্ড এডিটিং  
৪. ফটো রিটাচিং  
৫. স্কেচ তৈরি  
৬. ওয়েব সাইটের জন্য পিএসডি তৈরি  
৭. বিভিন্ন পিএসডি ইমেজকে ভেক্টরে কনভার্ট করা  
৮. বিজনেস কার্ড ডিজাইন  
৯. ব্যানার/পোস্টার ডিজাইন  
১০. স্টিকার ডিজাইন 
১ ১. ব্লগিং এবং ইউটিউবিং করে আয় 
১ ২. টি শার্ট ডিজাইন করে আয় ইত্যাদি    

উপরোক্ত কাজগুলো যেকোনো একটি যদি আপনি করেন তাহলে এখান থেকে মোটা অংকের টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন। যদিও নতুন অবস্থায় বেশি পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব নয়। তবে আপনি যদি ধৈর্য সহকারে লেগে থাকেন আমি এটা গ্যারান্টি দিতে পারি যে একসময় আপনি খুব ভালো পরিমাণ টাকা এখান থেকে আয় করতে পারবেন। এমনকি বাংলাদেশের অনেক তরুণ বর্তমানে উপরের কাজগুলোর মধ্য থেকে এক বা একের অধিক কাজগুলো করে ঘরে বসে থেকেই মাসে লাখ টাকার ওপরে আয় করছেন।


অনলাইনে কোন কোন জায়গায় গ্রাফিক্সের কাজ পাবেন?

আপনি যদি অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর মাধ্যমে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বায়ারের কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি হবেন একজন সেলার। কাজ পাওয়ার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে কোনো না কোনো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। তাছাড়া আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপরে নিজের কোন একটি কোম্পানি যেমন ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে কোন প্রকার বায়ারের কাজ করতে হবে না।

ইউটিউবিং বা ব্লগিং ছাড়া অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে আয় করার জন্য যে সকল জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো- 
  • Freelancer.com 
  • Guru.com 
  • Peopleperhour.com 
  • Fiverr.com  
  • www.99designs.com ইত্যাদি  
এই সকল মার্কেটগুলো বর্তমান বিশ্বে খুবই জনপ্রিয় এবং টপ রেংকিং এ রয়েছে। এই মার্কেটপ্লেসগুলোতেও প্রচুর পরিমাণে বায়ার বসে আছেন ফ্রিল্যান্সার বা সেলারদেরকে দিয়ে কাজ দেওয়ার জন্য। তাই আপনি এসকল মার্কেটপ্লেসগুলোতে একাউন্ট তৈরি করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতার বিনিময় গ্রাফিক্স ডিজাইন করে আয় করতে পারবেন।


আজকের টপিকের শেষ কথা 

আশা করি আজকের আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর খুঁটিনাটি সম্পর্কে একটু হলেও জানতে পেরেছেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন এর পরিধি এত বড় যে শুধুমাত্র একটি আর্টিকেল এর মধ্যে এত সব বিষয় তুলে ধরা কখনোই সম্ভব নয়। তবে এখানে আমি গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং কিভাবে এটি করে অনলাইনে আয় করা যায় এবং এর সফটওয়্যারগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, আপনি যদি একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারেন তাহলে আপনি অন্য সকলের থেকে অনেক ধাপ এগিয়ে থাকবেন। হতে পারে সেটা অফলাইন অথবা অনলাইন। চাইলে আপনি  এর উপর নানান ধরনের কাজ করে উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। শুধু আপনাকে সঠিকভাবে কাজে মনোনিবেশ করতে হবে এবং ধৈর্য ধরি কাজে লেগে থাকতে হবে তাহলেই হবে।

Post a Comment

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

নবীনতর পূর্বতন