বিটকয়েন উপার্জন (earn bitcoin)করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। ঘরে বসে থেকে কিছু উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমে বিটকয়েন আয় করা সম্ভব। তবে আপনি যদি বিটকয়েন উপার্জন করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে সর্বপ্রথম কিভাবে বিটকয়েন আয় করা যায় সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট কিছু উপায় জানা আবশ্যক। 
বিটকয়েন উপার্জন

মূলত আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমরা বিটকয়েন আয় করার কয়েকটি কৌশল বা উপায় সম্পর্কে জানব। কেননা বিটকয়েন আয় করতে হলে সর্বপ্রথম আপনাকে আয় করার উপায় সম্পর্কে জানতে হবে। তাই আজকের এই টপিকটি ধৈর্য্য সহকারে পড়ে নিন। বিটকয়েন ইনকাম করার কিছু উপায় হলো:

আরো পড়ুন: 

মাইনিং করে বিটকয়েন উপার্জন: 

বর্তমান বিশ্বে যারা প্রফেশনালভাবে বিটকয়েন লেনদেনকে নিজেদের পেশা হিসেবে নিয়েছেন, তারা মূলত মাইনিং পদ্ধতি ব্যবহার করার মাধ্যমে বিটকয়েন উপার্জন করে থাকেন। আর এই বিটকয়েন মাইনিং পদ্ধতিটাকে বিটকয়েন আর্নিং বা উপার্জন না বলে বরং বিটকয়েন উৎপাদন বলাই শ্রেয়। কারন "বিটকয়েন মাইনিং"(Bitcoin Mining) করার মাধ্যমে নতুন বিটকয়েন উৎপন্ন হয়। আর এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি মূলত কম্পিউটারের গ্রাফিক্সকে কাজে লাগিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

যারা প্রফেশনালভাবে বিটকয়েন বিজনেস বা ব্যবসা করেন করেন তারা সাধারণত "বিটকয়েন মাইনার" দিয়ে নতুন বিটকয়েন উৎপাদন করে থাকেন। আর তাদের উৎপাদিত বিটকয়েন অনলাইনে সেল করেন। যে কেউই বিটকয়েন মাইনিং করতে পারবেন তবে সেক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন হবে। এই পদ্ধতিতে আনলিমিটেড বিটকয়েন তৈরি করা গেলেও "রুম ভর্তি গ্রাফিক্স কার্ড" কাজে লাগিয়ে সারাদিনে সর্বোচ্চ ১টি বিটকয়েন মাইনিং করা যেতে পারে। আমরা সাধারণত যেসকল কম্পিউটার ব্যবহার করি সেগুলোর গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে ১টি বিটকয়েন উৎপাদন করতে কয়েক বছর লেগে যাবে৷

শেয়ারবাজার থেকে বিটকয়েন আর্নিং:

অনলাইন মার্কেটে বিটকয়েনের চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে শেয়ারবাজারে বিটকয়েনের প্রভাব উর্ধ্বমুখী। টাকা বা ডলারের পরিবর্তে অনেকেই এখন বিটকয়েন শেয়ার করছেন। আপনি চাইলে শেয়ারবাজারে ডলার কিংবা টাকা বিনিয়োগ করার পরিবর্তে বিটকয়েন বিনিয়োগ করতে পারেন।

বিটকয়েন বিনিয়োগ করার ঝুকি কম ফলে এই মুহুর্ত বিটকয়েনের চাহিদা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক। টাকা বা ডলারকে বিটকয়েনে এক্সচেঞ্জ করে; সেই এক্সচেঞ্জকৃত বিটকয়েন বিনিয়োগ করে বিটকয়েন আয় করতে পারেন। যারা শেয়ারবাজার সম্পর্কে ধারণা রাখেন; তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। একজন সাধারণ ব্যাক্তির পক্ষে এই পদ্ধতিটি হবে আত্মঘাতী।

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থেকে বিটকয়েন আয়:

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা ছোটখাটো কিংবা যেকোন কাজের বিনিময়ে ডলার বা টাকার পরিবর্তে বিটকয়েন দিয়ে থাকে। এরকম বহু প্রতিষ্ঠান আছে যারা ডলারকে বিটকয়েনে রুপান্তর করে অস্থায়ী বা অনলাইন কর্মীদের বিটকয়েন পরিশোধ করে৷ 

আপনি চাইলে এসব প্রতিষ্ঠানে ছোট ছোট কাজের বিনিময়ে বিটকয়েন আর্ন করতে পারেন। বাংলাদেশ বা ভারত থেকে এই পদ্ধতিতে বিটকয়েন উপার্জন করা অনেকটাই কঠিন। কারণ বিটকয়েন পরিশোধ করা এসব প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশই আমেরিকাকেন্দ্রিক যেকারণে বাংলাদেশ কিংবা ভারতীয়দের দিয়ে সার্ভের মতো ছোট ছোট কাজগুলো তারা করান না।

তবে বর্তমানে আমাদের মধ্যে যারা ফ্রিল্যান্সিং কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন, অথবা আমরা যারা ফ্রিল্যান্সিং করছি সে ক্ষেত্রে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে - বর্তমানে অনেক বায়ার কাজের ভিত্তিতে পেমেন্ট এর মাধ্যম হিসেবে বিটকয়েন অফার করছেন। অর্থাৎ অনলাইন ফ্রীলান্সিং মার্কেটপ্লেসের অনেকবার এখন টাকা বা ডলারের পরিবর্তে বিটকয়েনে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য অফার করে থাকেন। এরকম উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস হল: Fiverr.com, Upwork.com, Freelancer.com ইত্যাদি।

মোবাইল অ্যাপ দিয়ে বিটকয়েন আর্নিং: 

খুবই আশাব্যঞ্জক খবর হচ্ছে; বর্তমানে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও বিটকয়েন আর্ন করা যায়। বাংলাদেশ কিংবা ভারতের মতো দেশ থেকেও ছোট ছোট কাজ করে বিটকয়েন আয় করা যায়। ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই পদ্ধিতিটি খুবই জনপ্রিয় কারণ এতে কোন রকম ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই কেবল স্মার্টফোন ব্যাবহার করে বিটকয়েন আয় করা যায়। এই পদ্ধতিতে বিটকয়েন আর্নিং এর পরিমাণ খুব অল্প হলেও ধীরে ধীরে সেটি বাড়ানো যায়। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি সাপোর্ট করিনা। কারণ বিটকয়েন আর্নিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে কাজ করতে গেলে আপনাকে আর্নিং এর তুলনায় শ্রম, সময় বেশি দিতে হবে। তাছাড়া সেই সাথে আর্নিং এর তুলনায় আপনার এমবি বেশি খরচ হবে, যা অনেকটা হাস্যকর।

বিভিন্ন রকম মোবাইল অ্যাপ আছে যেগুলো দিয়ে বিটকয়েন আয় করা যায়। কিন্তু সকল অ্যাপই যে পেমেন্ট করে তাও নয়। অনেক অ্যাপ আছে যেগুলো ঠিকমতো পেমেন্ট দেয় না; এসব অ্যাপ ব্যাবহার করলে সময়ের অপচয় হতে পারে। 

শেষ কথা,

আশা করি আজকের এই ছোট টপিকটির মাধ্যমে বিটকয়েন উপার্জন করার কিছু উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এছাড়াও আরও অনেকগুলো পদ্ধতি আছে যেগুলোর সাহায্যে খুব সহজেই বিটকয়েন আয় করা যায়। বিটকয়েন আয়ের প্রত্যেকটি প্লাটফর্ম লিগ্যাল নয়। 

যেহেতু ভার্চুয়াল মুদ্রার কোন অস্তিত্ব নাই সেহেতু এমন অনেক প্লাটফর্ম আছে যারা নামকাওয়াস্তে বিটকয়েন প্রতিষ্ঠান খোলে মানুষকে ধোকা দেয়। শেয়ারবাজারেও অনেকসময় দেখা যায় বিটকয়েনের দরপতন শুরু হতে পারে। সব মিলিয়ে; বিটকয়েন আর্নিং এর ক্ষেত্রে অবশ্যই মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।

Post a Comment

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

নবীনতর পূর্বতন