আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এয়ারড্রপ শব্দটি আজকেই প্রথম শুনেছি, আবার অনেকেই আছেন যারা এই শব্দটার সাথে অনেক আগে থেকেই পরিচিত। আসলে এই এয়ারড্রপ কি? এটি কিভাবে কাজ করে এবং এয়ারড্রপ থেকে আয় করা কি সম্ভব? যদি সম্ভব হয় তাহলে কিভাবে আয় করা যায়? অনলাইনে এয়ারড্রপ থেকে আয় করতে কি কি প্রয়োজন হবে?

এয়ারড্রপ (Airdrop) কি

আজকের এই টপিকটিতে মূলত আমরা উপরের প্রশ্নের উত্তরগুলো জানার চেষ্টা করব। বিষয়গুলো জানার পর হয়ত আপনি নতুন অনেক কিছু জানতে পারবেন। তাই মনোযোগ সহকারে সম্পন্ন আর্টিকেলটি পড়ুন। 

আরো পড়ুন:

এয়ারড্রপ (Airdrop) কি?

একটি উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটি বুঝানো যাক- ধরে নিন কোন একটি কোম্পানি বাজারে নতুন এসেছে। অবশ্যই নতুন কোম্পানিটি সম্পর্কে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া তেমন বেশি লোকজন জানবে না, তাই না? তখন সেই কোম্পানি বেশি পরিমাণ মানুষদেরকে তাদের কোম্পানি বা কোম্পানির প্রোডাক্ট সম্পর্কে প্রচারণার জন্য বিভিন্ন ধরনের অফার দিয়ে থাকেন। এমনকি এমন অনেক কোম্পানিও দেখা যায় যে, নতুন অবস্থায় তারা সম্পূর্ণ ফ্রিতে গ্রাহকদেরকে তাদের কোম্পানির বিভিন্ন প্রডাক্ট ব্যবহারের জন্য দিয়ে থাকে। যার মূল উদ্দেশ্য থাকে কোম্পানীর পরিচিতি বৃদ্ধি করা। ঠিক একই রকম হচ্ছে এয়ারড্রপ (Airdrop)।

মূলত এয়ারড্রপের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের নতুন ধরনের কয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে নিয়ে আসে। যেহেতু কয়েনটি নতুন এবং কয়েনটি সম্পর্কে মানুষ একদমই জানেনা, তাই সেটি সম্পর্কে মানুষকে জানানোর জন্য এবং উক্ত কোম্পানিগুলোর সোশ্যাল মিডিয়াতে অডিয়েন্স বৃদ্ধির জন্য তারা এয়ারড্রপের মাধ্যমে গ্রাহকদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ নতুন কয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সিটি ফ্রিতে দিয়ে থাকেন। এতে করে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন টোকেনটি পরিচিতি লাভ করে। আর এই সম্পূর্ণ ব্যাপারটি হচ্ছে এয়ারড্রপ। 


এয়ারড্রপ থেকে কি আয় করা যায়?

হ্যাঁ, এয়ারড্রপের মাধ্যমে অবশ্যই অনলাইনে আয় করা যায়। তবে তার জন্য এখানে অনেক ধৈর্যের সাথে মনোযোগ সহকারে কাজ করতে হয়। যদি ধৈর্য থাকে, তাহলে যে কেউ চাইলে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ব্যবহার করে এয়ারড্রপে জয়েন হওয়ার মাধ্যমে প্রতিদিন 30 মিনিট থেকে এক ঘন্টা টাইম দিলে মাস শেষে 100-500$+ উপার্জন করতে পারবেন ইনশা-আল্লাহ।

এয়ারড্রপ থেকে আয়

বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক তরুণ- তরুণী রয়েছেন, যারা শুধুমাত্র এয়ারড্রপে কাজ করার মাধ্যমে মাস শেষে 25 থেকে 40 হাজার টাকা পর্যন্ত অনলাইনে আয় করে থাকেন। এক্ষেত্রে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে হলে অবশ্যই ভালো ভালো এয়ার্ড্রপগুলোতে জয়েন হওয়া জরুরী। যদি আপনার মত একজন স্বাভাবিক মানুষ এয়ারড্রপ থেকে আয় করতে পারে, তাহলে আপনি কেন পারবেন না? 

অবশ্যই আপনি এখানে ধৈর্যসহকারে প্রতিদিন কিছু পরিমাণ সময় দিলে আয় করতে পারবেন। তবে নতুন অবস্থায় আপনি হয়তো নানান ধরনের ভুল করবেন, এক্ষেত্রে যত ভুল করবেন আপনি ততোই নতুন কিছু শিখতে পারবেন। তাছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ফেক বা এয়ার্ড্রপও থাকে যেগুলো থেকে পেমেন্ট পাওয়া যায় না। সব মিলিয়ে নতুন অবস্থায় তেমন কোন পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন না। তবে প্রতিদিন সময় দিলে একসময় যখন আপনি দক্ষতা অর্জন করবেন তখন এখান থেকে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন। তাছাড়া এখানে যার কমিউনিটি যত বড়, তার ইনকামের পরিমাণও তত বেশি। অনলাইনে খুব সহজে এবং একদম ফ্রীতে টাকা আয় করার জন্য এয়ারড্রপ (Airdrop) হল অন্যতম। 


কিভাবে এয়ারড্রপ থেকে আয় করা যায়?

আপনি যদি উপরের লেখাগুলো ভালভাবে পড়ে থাকেন, তাহলে এতক্ষণে নিশ্চয়ই এয়ারড্রপ এর কাজ সম্পর্কে অনেকটা আইডিয়া পেয়ে গেছেন। এয়ারড্রপে তেমন কোন কষ্টের কাজ করতে হয় না। তবে কাজের ধরন এয়ারড্রপের প্রজেক্ট অনুযায়ী ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। তবে সব ধরনের এয়ারড্রপে জয়েন পদ্ধতি প্রায় একই রকম।

এয়ারড্রপের কাজের ধরন 

এয়ারড্রপে কাজ করার ধরনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:-
  1. টেলিগ্রাম গ্রুপে জয়েন করা  
  2. টেলিগ্রাম চ্যানেল-এ জয়েন করা 
  3. টুইটারে ফলো করা ও পোস্টে লাইক করা  
  4. ট্যাগ এবং রিটুইট করা  
  5. ইনস্টাগ্রামে ফলো করা 
  6. মিডিয়ামে ফলো করা ইত্যাদি

এয়ারড্রপ অনুযায়ী তারা রিকোয়ারমেন্ট দিয়ে থাকে যে, এই টাস্কগুলো আপনাকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে। আপনি যখন এয়ারড্রপ নিয়ে কাজ করবেন তখন একটি এয়ারড্রপ অফারে জয়েন করার সময় কোন কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনাকে ফলো এবং লাইক বা কমেন্ট করতে হবে তা সুন্দরভাবে ইংরেজিতে উল্লেখ থাকবে। আপনাকে সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

এয়ারড্রপ থেকে আয় করতে কি কি প্রয়োজন হবে?

এয়ারড্রপ এর মাধ্যমে আয় করার জন্য তেমন বেশি কিছু জিনিসের প্রয়োজন নেই আবার অনেক জিনিসের প্রয়োজন আছে। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের মাধ্যমে খুব সহজেই এয়ার্ড্রপ এ কাজ করতে পারবেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো:-

  • আপনার নিজস্ব টেলিগ্রাম একাউন্ট শতকরা 99 ভাগ এয়ার্ড্রপ টেলিগ্রাম এর মাধ্যমে শেয়ার করা হয়ে থাকে)
  • ট্রাস্ট ওয়ালেট ( এয়ার্ড্রপ থেকে পেমেন্ট রিসিভ করার জন্য একটি ওয়ালেট এর দরকার পড়বে, প্রায় 90 ভাগেরও বেশি এয়ারড্রপ এর পেমেন্ট ট্রাস্ট ওয়ালেটের মাধ্যমে গ্রহণ করা যায় বা গ্রহণ করতে হয়) 
  • সোসিয়াল মিডিয়া একাউন্ট (ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন, মিডিয়াম, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট ইত্যাদি)

শেষ কথা,

আপনি যখন এয়ারড্রপ এ কাজ করতে যাবেন তখন 2 থেকে 3টা এয়ার্ড্রপ রিলেটেড ভালো গ্রুপে জয়েন করলেই হবে যেখানে ভালো ভালো এয়ার্ড্রপ অফার লিংকসহ শেয়ার করা হবে।  সেখান থেকে চেষ্টা করবেন সবগুলো এয়ারড্রপে জয়েন হওয়ার জন্য। এভাবে ধৈর্য সহকারে একটানা টাকার চিন্তা না করে দুই থেকে তিন মাস কাজ করলেই পরবর্তী মাসগুলোতে মোটামুটি ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন ইনশা-আল্লাহ।

আশা করি আজকের এই টপিকঃটির মাধ্যমে এয়ারড্রপ (Airdrop) কি, কিভাবে এটি থেকে আয় করা যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন। আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন প্রশ্ন বা মতামত থেকে থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদেরকে জানাতে পারেন।

1 মন্তব্যসমূহ

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

নবীনতর পূর্বতন