কালোজিরার উপকারিতা ও অপকারিতা

কালোজিরার উপকারিতা

কালোজিরা কিঃ– কালোজিরা দেখতে ছোট ছোট কালো দানার মতো। প্রাচীন কাল থেকে কালোজিরা বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানেই শেষ নই, এটার মধ্যে রয়েছে কিছু বিষ্ময়কর শক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে কালোজিরার মধ্যে রয়েছে – ফসফরাস, লৌহ, ফসফেট ও কার্বোহাইড্রেট উপাদান। এছাড়া রয়েছে জীবাণু নাশক বিভিন্ন উপাদান। কালোজিরায় ক্যান্সার প্রতিরোধক কেরোটিন ও শক্তিশালী হরমোন এবং প্রসাব সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।

এসব ছাড়াও কালোজিরার অনেক উপকারিতা রয়েছে আজেকের এই আর্টিকেলটিতে আমরা কালোজিরার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো

আরো পড়ুনঃ

কালোজিরার উপকারিতা সমূহঃ-

কালোজিরা মানবদেহের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন উপকারিতা রয়েছে– 
  • স্মরনশক্তি বৃদ্ধিতে সহয়তা করে। 
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহয়তা করে। 
  • যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
  • মাথার চুল পড়া প্রতিরোধ করে। 
  • ব্যাথা নাশক হিসাবে কাজ করে। 
  • মায়ের বুকের দুধ বাড়াতে সহয়তা করে। 
  • ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহয়তা করে। 
  • অধিক ঋতুস্রাব নিয়ন্ত্রণ করে। 
  • মাথা ব্যাথা,জ্বর সর্দি প্রতিরোধে সহয়তা করে। 
  • সকল রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। 
  • শরীরে বিভিন্ন চর্মরোগ দূর করে। 
  • ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখে। 
  • হজম শক্তি ও পেট পরিষ্কার করতে সহয়তা করে। 
  • স্বাস্থ্য ও শরীর ফিট রাখতে সহয়তা করে। 
  • শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতে সহায়তা করে। 
  • গ্যাস্ট্রিক ও আমাশয় রোগে সহয়তা করে। 
  • জন্ডিস ও লিভার রোগে সহয়তা করে। 
  • শিশুর দৈনিক ও মানসিক বিকাশে সহয়তা করে। 
  • মানবদেহে চর্বি ও মেদ কমাতে সহয়তা করে। 
  • অর্শ্বরোগ নিরাময় করে। 
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

স্মৃতিশক্তি বা স্মরনশক্তি বৃদ্ধিতেঃ–

কালোজিরার তেলের সাথে পুদিনা পাতা কমলার রস করে এক কাপ চায়ের সাথে মিশিয়ে দিনে তিনবার খেলে উপকার পাবেন। এছাড়া মষ্টিকের দুশ্চিন্তা দূর করবে।এছাড়া মেধা শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে দ্বিগুন। কালোজিরাই রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিসেপটিক উপাদান যা মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং স্মরন শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

সর্দি কাশি জ্বর সারাতেঃ-

কলোজিরার তেল করে মধুর সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার খেতে হবে এবং কালোজিরার তেল করে মাথায় ও গোলায় মালিস করতে হবে। আবার এক চা-চামচ কালোজিরার তেলের সাথে তুলসি পাতার রস করে মিশিয়ে খেলে জ্বর, সর্দি কাশি ইত্যাদি দূর হবে।

যৌন সমস্যা সমাধানেঃ-

কালোজিরা যৌন সমস্যায় ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কালোজিরা নারী-পুরুষের যৌন ক্ষমতা বাড়ায় এবং যৌন সমস্যা প্রতিরোধ করে থাকে। প্রতিদিন খাবারের সাথে কালোজিরা খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পাই এবং পুরুত্বহীনতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এক চা-চামচ মাখন, জাইতুন তেল মধু সমপরিমাণ কালোজিরার সাথে দৈনিক ৩ বার চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ-

কালোজিরা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহয়তা করে। কালোজিরাতে রয়েছে এক ধরনের কেরাটিন নামক উপাদান যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। কালোজিরা মানবদেহে প্রায় ১০০ টি রোগের কাজ করে। তার মধ্যে ক্যান্সার রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে থাকে।

চুল পড়া বন্ধ করতেঃ–

চুল পড়া একটি বড় সমস্যা। এটি থেকে মুক্তি পেতে হলে নিয়মিত কালোজিরা খেতে পারেন। এছাড়া মাথার খুলি লেবু বা সাম্পু দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করেন। এরপর মাথার চুল ভালোভাবে শুকানোর পর কালোজিরার তেল খুলিতে মালিশ করুন। এতেই আপনার এক সপ্তাহের মধ্যেই চুল পড়া কমে যাবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ–

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কালোজিরা বেশ উপকারি। কালোজিরা মানবদেহে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহয়তা করে। প্রতিদিন সকালে এক চিমটি পরিমান কালোজিরা খালি পেটে সকালে পানির সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। এছাড়া গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সহয়তা করে।

অনিয়মিত মাসিক সারাতেঃ-

অনিয়মিত মাসিক সারাতে কালোজিরার ভূমিকা অত্যাধিক। কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ আতব চাল ধোয়া পানির সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে ৩ বার খেলে ভালো ফল পাবেন। এতেই অনিয়মিত মাসিক সারাতে ভূমিকা রাখে।

মায়ের দুধ বাড়াতেঃ–

যে সব মায়েদের বুকের পযন্ত পরিমান দুধ হয় না, তাদের জন্য মহৌষধ হিসাবে কাজ করে কালোজিরা। প্রতিরাতে মায়েরা শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালোজিরা মিহি আকারে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে করেই মায়ের বুকের দুধ ১০-১৫ দিনের মধ্যে বেড়ে যাবে।

শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতেঃ-

শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে কালোজিরার ভূমিকা অত্যাধিক। দুই বছরের বেশি শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করলে শিশুর দ্রুত দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহয়তা করে। তবে ২ বছরের কম বয়সের শিশুদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত না।

গ্যাস্ট্রিক বা আমাশয় নিরাময়েঃ–

গ্যাস্ট্রিক বা আমাশয় রোগের চিকিৎসায় কালোজিরার ব্যবহার অনেক পুরানো কাল থেকে হয়ে আসছে। দৈনিক এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে ৩ বার করে ৫ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতেঃ–

কালোজিরা শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতে বেশ ভূমিকা রাখে। যারা প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় কালোজিরার ভর্তা রাখবেন এতে করে আপনার হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা উপশম হবে।

পাইলসের সমস্যা নিরাময়েঃ–

এক চা-চামচ কালোজিরার তেল ও সমপরিমাণ তিলের তেল প্রতিদিন খালি পেটে সকালে ৩-৪ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাথের ব্যাথা দূরীকরণেঃ-

বাতের ব্যথা দূর করতে কালোজিরা অত্যন্ত কার্যকরী। আক্রান্ত স্থান ভালো ভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে কালোজিরার তেল মালিশ করুন এতে বাথের ব্যথা দূর হবে। এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার তেলের সাথে সমপরিমাণ হলুদের রসের সাথে মধু মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার করে ৪/৫ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেঃ-

কালোজিরার তেল হার্টের রোগীদের জন্য বেশ উপকারি। এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দৈনিক ২ বার খেলে হার্টের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া কালোজিরার তেল বুকে মালিশ করলে উপকৃত হবেন।

ত্বকের সৌন্দর্য বা আদ্রতা বৃদ্ধিতেঃ-

ত্বকের সৌন্দর্য বা আদ্রতা বৃদ্ধিতে কালোজিরার তেল বেশ উপকারি। শীতকালে ত্বকের আদ্রতার জন্য অনেকেই বডি লোশন ব্যবহার করে থাকি। এর পরিবর্তে কালোজিরার তেলের সাথে জাইতুন (অলিভওয়েল) তেল মিশিয়ে সারা শরীর ভালো ভাবে মালিশ করতে হবে। এতে করে আপনার শরীরের ত্বকের সৌন্দর্য, আদ্রতা এবং চর্মরোগ থেকে মুক্তি মিলবে। এছাড়া বিশেষভাবে শিশুর ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য এই পদ্ধতিতে সারা বছর ব্যবহার করতে পারেন।

জন্ডিস বা লিভারের সমস্যা দূরীকরণেঃ-

মানবদেহের লিভার ক্যান্সারের জন্য দায়ী অফলা টক্সিন নামক বিষ। এটি ধ্বংস করে কালোজিরা। যদি এক গ্লাস ত্রিপলার শরবতের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল দৈনিক ৩ বার ৪/৫ সপ্তাহ খেলে ভালো ফল পাবেন।

অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি কমাতেঃ-

অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ কমাতে কালোজিরা বেশ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চা-চামচ মধুর সাথে সমপরিমাণ কালোজিরা মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি কমাতে সহয়তা করবে।

কালোজিরার অপকারিতা সমূহঃ-

  1. দুই বছরের কম বয়সের শিশুদের কালোজিরার তেল খাওয়ানো উচিত নয়। 
  2. গর্ভবস্থায় মায়েদের কালোজিরা খাওয়া উচিত নয়। তবে এটি বাহ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে।
  3.  অতিরিক্ত কালোজিরা খেলে পিত্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
  4. তবে যাদের এলার্জি আছে তাদের কালোজিরা না খাওয়াই ভালো। এতে এলার্জি বাড়ার সম্ভবনা থাকে।

পরিশেষেঃ–

আজকের আলোচনা থেকে আপনারা হয়তো কালোজিরার উপকারিতা ও পুষ্টিগুন সম্পর্কে জানতে পারছেন। আর এটি আমরা সকল রোগের মহৌষধ হিসাবে ব্যবহার করতে পারি। ইসলামে এটি প্রসংশা করেন, আর রাসুল (সাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত – “তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন,’ কালোজিরা সকল রোগের উপশম আছে, তবে ‘আস্সাম’ ব্যাতিত।’ আম্সাম ‘ অর্থ মৃত্যু।

আশা করি আজকের এই টপিকঃটির মাধ্যমে কালোজিরার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন। আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন প্রশ্ন বা মতামত থেকে থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদেরকে জানাতে পারেন।। ধন্যবাদ সকলকে।

Post a Comment

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরিলেভেন্ট লিংক শেয়ার করার চেষ্টা করবেন না । স্পামিং করা থেকে বিরত থাকুন । আপনার লিংকটি যুক্তিসঙ্গত না হলে সেটি অ্যাপ্রুভ করা হবে না ।

নবীনতর পূর্বতন